প্রত্যাবাসন ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বৈঠকে তালেবান

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম

আফগান শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন বা নির্বাসন ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিরল এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নিতে মঙ্গলবার (২৩ জুন) ব্রাসেলসে যাচ্ছে আফগান তালেবানের একটি প্রতিনিধি দল।

তালেবান কর্মকর্তাদের মতে, বৈঠকে মূলত ইউরোপে আশ্রয়প্রার্থী আফগান নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। বর্তমানে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীদের অন্যতম বড় অংশ আফগান নাগরিক। তবে যাদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বা যারা গুরুতর অপরাধে জড়িত, তাদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠাতে আগ্রহী ইউরোপের অনেক সরকার।

তবে এই বৈঠক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, তালেবানের সঙ্গে এমন যোগাযোগ ইইউর মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে আফগানদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে তালেবান নারী ও মেয়েদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক অংশগ্রহণের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এ কারণে এখনো ইইউর কোনো সদস্য রাষ্ট্র তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি।

তবুও পাঁচ সদস্যের তালেবান প্রতিনিধি দল ব্রাসেলসে বৈঠকে অংশ নিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতায় সামান্য ফাটল তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো জানিয়েছেন, তালেবানকে স্বীকৃতি না দিলেও ইইউর অনুরোধে তাদের ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই বৈঠকের সুযোগ করে দেওয়া কোনোভাবেই তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি বা বৈধতা দেওয়ার সমান নয়।

ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র মার্কুস ল্যামার্ট জানান, ইইউর ২৭টি সদস্য দেশের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের চাপে এই কারিগরি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলো বিশেষ করে গুরুতর অপরাধে জড়িত এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত আফগানদের ফেরত পাঠানোর উপায় খুঁজছে।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং সেখানে মানুষকে ফেরত পাঠানো তাদের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

খাদ্য সংকট, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে থাকা আফগানিস্তান বর্তমানে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। একই সময়ে পাকিস্তান ও ইরান থেকে বিপুলসংখ্যক আফগান নাগরিককে ফেরত পাঠানোয় দেশটির মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত