চীনের সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ চুক্তি হচ্ছে

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ১২:৩৭ এএম

দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান চীন সফরে  সৌরবিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে একটি বড় ধরনের চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ‘পাকিস্তানে সৌর বিপ্লব : জাতীয় বাজেটের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয়’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা বলেন চিফ হুইপ।

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে চায়নায় আছেন। এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হলেও আপনারা দেখবেন, বড় যে চুক্তিগুলো হবে সেখানে সোলার বিষয়টি আসবে।’ তিনি বলেন, দেশে টেকসই ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। দেশের সামগ্রিক কল্যাণ এবং একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি তৈরিতে এই খাতকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চিফ হুইপ বলেন, সরকার ইতিমধ্যে সব সরকারি ভবনের ছাদ এবং শিল্প-কারখানাকে সোলার সিস্টেমের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষের সুবিধা এবং সেচ প্রকল্পের খরচ কমাতে সব ধরনের পাওয়ার পাম্প ও টিউবওয়েলকে সোলার সিস্টেমে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ‘পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুতের গণজোয়ার’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাকিস্তানের রিনিউয়েবলস ফার্স্টের স্পেশাল ইনিশিয়েটিভস মোহাম্মদ বাসিত ঘৌরি।

ঘৌরি বলেন, পাকিস্তানের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এই রূপান্তর মূলত জাতীয় গ্রিডের বাইরে নিজস্ব উদ্যোগে হয়েছে। পরিবর্তনটি কোনো নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ ছিল না। শহর ও গ্রাম, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় আবাসিক, শিল্প ও কৃষি খাতে এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান।

তিনি জানান, পাকিস্তানে এই পরিবর্তনের পেছনে অতিরিক্ত বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং সরকারি সহযোগিতা কাজ করেছে। এই খাতে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে, যা আইএমএফের ঋণের প্রায় দ্বিগুণ। বাংলাদেশের সঙ্গে বড় পার্থক্য হলো, এই অর্থের বড় অংশ ব্যাংক থেকে আসেনি; পাকিস্তানের মধ্যবিত্ত ও গ্রামীণ মানুষ নিজস্ব অর্থায়নে এই বিনিয়োগ করেছে। এর ফলে সেখানে প্রায় ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এ সময় ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের আসিফ শাহরিয়ার, বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা মাহমুদ, বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসানাত, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ এবং সাস্টেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (স্রেডা) চেয়ারম্যান ড. আশরাফুল আলম প্রমুখ আলোচনা করেন।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, পরিবেশবান্ধব জ্বালানির পথে বাংলাদেশকে আরও অনেক দূর যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তান কীভাবে সংকট কাটিয়ে সফল হয়েছে, তা থেকে বাংলাদেশের শেখার আছে।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানে সরকারি ব্যবস্থার বাইরে গ্রামাঞ্চলে ঘরে ঘরে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের একটি বড় বিপ্লব হয়েছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তানের সফল সোলার মডেল থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক বৈষম্য দূর করতে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে বলে জানান টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) সদস্য আশরাফুল আলম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত