নেইমারের ফেরার ম্যাচ

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ০২:৩০ এএম

মায়ামি লিওনেল মেসির নতুন ঠিকানা। ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে এখানেই তার বাস। এই মায়ামির রক গার্ডেন স্টেডিয়ামে মেসির আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের রাউন্ড ৩২-এর ম্যাচ খেলতে আসবে ২৯ জুন। আর ব্রাজিল এই মায়ামিতেই আজ বুধবার নকআউট নিশ্চিতের ম্যাচ খেলতে নামছে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই এই ম্যাচটি রূপ নিয়েছে এক মনস্তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক দ্বৈরথে। গ্রুপ ‘সি’-এর শেষ রাউন্ডের এই ম্যাচটি দুদলের জন্যই নকআউট পর্বে ওঠার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ভাগ্যনির্ধারক। চার পয়েন্ট নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা সেলেসাওদের রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন মাত্র ১টি পয়েন্ট। অন্যদিকে, ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে থাকা স্কটল্যান্ডের সামনে টিকে থাকার মরণ-বাঁচন লড়াই।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্কটল্যান্ড কখনো প্রথম পর্বের গণ্ডি পার হতে পারেনি। আর তাদের এই স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাসের বড় একটা অংশজুড়ে রয়েছে সেলেসাওরা। অতীতে দু-দুবার স্কটল্যান্ডের ঐতিহাসিক যাত্রার পথে যবনিকা টেনে দিয়েছিল লাতিন আমেরিকার এই পরাশক্তি। ১৯৭৪ সালে গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত খেলেও ব্রাজিলের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হয়েছিল স্কটিশদের। আর ১৯৯০ ইতালির বিশ্বকাপে দুই দলের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ম্যুলারের শেষ মুহূর্তের গোলে ১-০ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। আর অশ্রুসিক্ত চোখে বিদায় নিয়েছিল স্কটল্যান্ড।

৩৬ বছর পর আবারও একই রকম এক রোমাঞ্চকর প্রেক্ষাপটের সামনে দাঁড়িয়ে দুদল। ইতিহাস কি এবারও নিজেকে পুনরাবৃত্তি করবে, নাকি রক গার্ডেনে নতুন কাব্য লিখবে স্কটল্যান্ড? এই ম্যাচের সবচেয়ে বড়  আকর্ষণ নিঃসন্দেহে নেইমার জুনিয়রের প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ তিন বছর চোটের আঁধারে থাকার পর অবশেষে সেলেসাওদের ১০ নম্বর জার্সিধারী বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামার জন্য প্রস্তুত। কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে সোমবার পুরো ইনটেনসিটির সঙ্গে ট্যাকটিক্যাল অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন তিনি। সতীর্থ গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির ভাষায়, ‘নেইমার দারুণ শেপে আছে।’ তবে কাফ ইনজুরি থেকে সদ্য সুস্থ হওয়া ৩৪ বছর বয়সী নেইমারকে শুরু থেকেই খেলানোর ঝুঁকি নেবেন না আনচেলত্তি। পরিকল্পনা রয়েছে ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বুঝে শেষ ২০ মিনিটে তাকে ‘ফলস নাইন’ হিসেবে মাঠে নামানোর।

তবে ব্রাজিলের স্বস্তির মধ্যে বড় অস্বস্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে রাইট উইং। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে নিয়মিত উইঙ্গার রাফিনহা ছিটকে গেছেন। হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে তরুণ রায়ানের ওপর ভরসা রাখলেও, এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে রাইট উইংয়ে কাকে খেলাবেন তা নিয়ে বেশ চিন্তিত ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড আনচেলত্তি। এই পজিশনে আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি বা জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গের লুইজ হেনরিককে ডান প্রান্তে শিফট করার কথা ভাবছেন কোচ।

সাধারণত লেফট-উইংয়ে খেলা মার্তিনেল্লি ডান প্রান্তে খেলার চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি বাম দিকে খেলতে পছন্দ করলেও আর্সেনালে সাকার ইনজুরির সময় আমি ডান উইংয়ে খেলেছি। কোচ যদি আমাকে রাইট-ব্যাক হিসেবেও খেলতে বলেন, আমি বলব) ‘অবশ্যই মিস্টার, আমি প্রস্তুত’।

তবে সবচেয়ে বড় আলোচনা তৈরি করেছে নেইমার ও ভিনিসিয়ুসকে নিয়ে তার বক্তব্য। মার্তিনেল্লি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দলের প্রধান তারকাদের পায়ের জাদু দেখানোর সুযোগ করে দিতে মাঠের সব ‘আজেবাজে’ (রক্ষণ সামলানো বা অনবরত প্রেসিং) কাজ করতে তিনি প্রস্তুত, ‘নেইমার বা ভিনিসিয়ুস যারা মাঠে আসল পার্থক্য গড়ে দেয়, তাদের খেলাকে আরও পটেনশিয়াল করতে আমরা মাঠে প্রয়োজনে ২০, ৩০ বা ৪০ শতাংশ বেশি দৌড়াতেও প্রস্তুত। আমরা বিশ্বকাপ জিততে এসেছি এবং সবাই সবটুকু ঢেলে দিতে রাজি।’

পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, বিশ্বকাপে লাতিন আমেরিকার দলগুলোর বিপক্ষে ৮ ম্যাচ খেলে স্কটল্যান্ড এখনো একটি ম্যাচও জিততে পারেনি। অন্যদিকে, হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে ছন্দ ফিরে পেলেও ব্রাজিলের গোল লক্ষ্য করে শট নেওয়ার গড় ১৯৬৬ সালের পর সবচেয়ে কম।

মায়ামির রক গার্ডেনে স্কটল্যান্ড চাইবে একটি পয়েন্ট কেড়ে নিয়ে ফুটবল ইতিহাসে নিজেদের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে। আর ব্রাজিলের লক্ষ্য থাকবে জয়ে ফিরেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে মাঠ ছাড়া। ইতিহাস বনাম ঐতিহ্যের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কারা হাসে, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ফুটবল বিশ্ব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত