মরা নদী রক্ষায় হাজার কোটির বাজি

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ০৭:৩৫ এএম

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাখালী সংলগ্ন খলসি চাঁদপুর এলাকায় করতোয়া নদীর উৎসমুখে জলকপাট নির্মাণ করা হয়। ১৯৮৮ সালে বন্যা থেকে রক্ষার নামে জলকপাটটি নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। গেটটি বছরের পর বছর কার্যত বন্ধ। এতে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। কাটাখালী ও করতোয়া দুই নদীর সংযোগস্থলে জলকপাট নির্মিত হওয়ায় নদীর দক্ষিণমুখী প্রবাহ অনেকাংশে কমে যায়। পানির পথ সংকুচিত হয়ে পড়ে। ফলে উত্তরবঙ্গের এক সময়ের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার অবলম্বন হিসেবে পরিচিত করতোয়া নদী দখল-দূষণ ও ভরাটে যৌবন হারিয়ে নালায় রূপ নেয়।

এদিকে গত ৬ এপ্রিল ‘করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্পে’ করতোয়া পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের নামে এক হাজার ১২২ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তুতি প্রস্তাব করা হয়। গত ১৬ জুন একনেকের সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পের আওতায় ২৩০ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন করা হবে। তবে পরিবেশ আন্দোলনকারীদের দাবি, আগে করতোয়ার পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে কোনো প্রকল্পই এখানে টিকবে না।

গাইবান্ধা শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে খলসি চাঁদপুর এলাকা। এলাকাটি গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। সম্প্রতি সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জলকপাটটির দুই পাশে নদী প্রায় মরে গেছে। নদীর দুই তীরে ঘাস। কোথাও নদীর তলদেশ জেগে উঠেছে, কোথাও চর পড়েছে। আবার কোথাও নদীর জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্থাপনা। পূর্ব-পশ্চিম দিকে করতোয়া প্রবাহিত। জলকপাটের উত্তর পাশে এখনো নদীর অস্তিত্ব স্পষ্ট। তবে গেটের দক্ষিণ দিকে অর্থাৎ বগুড়ামুখী অংশে দৃশ্যপট ভিন্ন। সেখানে পানির প্রবল প্রবাহ নেই বললেই চলে।

স্থানীয়রা জানান, প্রবেশমুখে থাকা জলকপাটটি কয়েক যুগ ধরে বন্ধ। এতে ভাটির দিকে ১২৩ কিলোমিটার এলাকায় পর্যাপ্ত পানি পৌঁছায় না। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ আগের মতো নেই। প্রবাহ না থাকায় নদীতে পলি জমেছে, কমেছে গভীরতা, বেড়েছে দখল।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার খলসি চাঁদপুর গ্রামের কৃষক আবদুল জলিল মিয়া জানান, এক সময় এটি বৃহৎ ও খরস্রোতা নদী হিসেবে পরিচিতি ছিল। উত্তরবঙ্গের কৃষি, বাণিজ্য, জনবসতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কয়েক দশক আগেও করতোয়া নদী দিয়ে বড় বড় নৌকা চলত। সেই নদী এখন হেঁটেই পার হওয়া যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাইবান্ধা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা থেকে বগুড়া পর্যন্ত কাজ করা হবে। নদীটি পুনঃখনন হলে করতোয়ায় পানি স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ফিরে আসবে। করতোয়া তার যৌবন ফিরে পাবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত