দীর্ঘ বিরতির পর আবারও নিজস্ব স্টুডিও থিয়েটার নিয়ে ফিরছে দেশের অন্যতম নাট্যদল ‘পালাকার’। রাজধানীর মগবাজার বিশাল সেন্টারের ছাদে যাত্রা করছে নতুন নাট্যমঞ্চ ‘পালাকার রুফটপ স্টুডিও’। মঞ্চটির আসন সংখ্যা ৩০টির মতো। উদ্বোধনী সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হবে পালাকার-এর নিরীক্ষাধর্মী নতুন প্রযোজনা ‘হাজার চুরাশি’।
এর আগে ২০০৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত মগবাজার দিলুরোড ও বেইলি রোডের ‘পালাকার স্টুডিও’ তে নিয়মিত নাটক প্রদর্শন করেছে দলটি। প্রতি শুক্র ও শনিবার সন্ধ্যায় ঘরোয়া পরিবেশে নিরীক্ষাধর্মী বেশ কিছু ইন্টিমেট থিয়েটার করেছিল পালাকার। যার মধ্যে ‘প্রজেক্ট হান্ড্রেড প্লাস’, ‘ডেথ নকস’, ‘টাইমস্কোপ’, ‘মৃত্তিকাকুমারী’, ‘ডাকঘর’, ‘বাসন’ ও ‘রিক্যুয়েস্ট কনসার্ট’ উল্লেখযোগ্য। সেই অন্তরঙ্গ নাট্য অভিজ্ঞতার ধারাকে পুনরুজ্জীবিত করতেই দলটির এই নতুন উদ্যোগ।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় এই নতুন আঙিনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বাংলা নাট্যের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট নাট্যজন মামুনুর রশীদ।
পালাকারের এবারের নতুন নাটক ‘হাজার চুরাশি’ কথাসাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী’র বিখ্যাত উপন্যাস ‘হাজার চুরাশির মা’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রচনা ও নির্মাণ করেছেন শামীম সাগর।
নতুন প্রযোজনা সম্পর্কে শামীম সাগর বলেন, ‘একজন নাট্যকর্মী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, থিয়েটারের কাজ শুধু চলমান সময়কে আয়নায় দেখানো নয়, বরং সেই সময়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ক্ষতগুলো স্পর্শ করা। এই প্রযোজনায় ক্ষমতার পালাবদলের সমান্তরালে তথাকথিত ‘সুশীল সমাজের ভণ্ডামি ও সুবিধাবাদকে নাট্যভাষায় ধরার চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, ‘মহাশ্বেতা দেবীর হাজার চুরাশির মা’ শুধু একটি সাহিত্যকর্ম নয়, এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদের এক ঐতিহাসিক দলিল। সেই অনুভূতিকে সমসাময়িক বাস্তবতার আলোকে মঞ্চে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমাদের বিশ্বাস, নাটকটি দর্শকদের নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে।’
স্টুডিওর এই নতুন আঙিনায় প্রথম দফায় তিন দিন আজ, কাল ও পরশু রবিবার প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী প্রদর্শনীটি শুধু আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। পরবর্তী দুই দিন, অর্থাৎ ২৭ জুন ও ২৮ জুনের প্রদর্শনী সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
একদল অভিজ্ঞ ও তরুণ সংস্কৃতিকর্মীর যৌথ স্বপ্নে ২০০২ সালে বাংলাদেশের থিয়েটার অঙ্গনে এই অলাভজনক নাট্যসংগঠনটির পথচলা শুরু হয়। সৃজনশীল ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আপামর জনগোষ্ঠীর জন্য এক সুন্দর ও অর্থবহ আগামী নির্মাণই পালাকারের মূল লক্ষ্য।
পালাকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যান্ত্রিক শহরের কংক্রিটের ভিড়ে খোলা আকাশ, লণ্ঠনের আলো আর মায়াবী দেয়ালচিত্রের মেলবন্ধনে তৈরি এই ‘পালাকার রুফটপ স্টুডিও’ নাট্যপ্রেমীদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক ইনডোর থিয়েটার দেখার অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।