জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দিতে নাহিদের ‘আলটিমেটাম’

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৯ এএম

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিল সংরক্ষণ, গবেষণা এবং প্রদর্শনের জন্য যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর করা হয়েছে, তা খুলে দিতে আলটিমেটাম দিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই জাতীয় জাদুঘর খুলে দিতে হবে, না হলে জনগণ নিজেরাই সেই জাদুঘর খুলে নেবে এবং নিজেরাই সেই জাদুঘরে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এনসিপি ঘোষিত ৩৬ দিনের কর্মসূচির প্রথম দিনে গতকাল বুধবার রাজধানীর রায়েরবাজারে শহীদদের গণকবর জিয়ারত করার পর নাহিদ ইসলাম এমন মন্তব্য করেন। বৃষ্টির মধ্যেই এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। জিয়ারতের পর তারা মোনাজাত করেন। এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি শুধু নামকাওয়াস্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পালন করলে হবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে আকাক্সক্ষা সংস্কার বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে, সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে আছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এবারের নির্বাচন ও গণভোটের অন্যতম ‘কমিটমেন্ট’ ছিল রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ; আমরা এ সংস্কার এখনো পাইনি। ফলে এবারের জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন, সেটার বার্ষিকী পালনের আমাদের অন্যতম ‘মটো’ হচ্ছে গণহত্যার বিচার এবং সংস্কার বাস্তবায়ন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, এ রায় গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী, শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধাসহ বাংলাদেশের  জনগণকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। আমরা মনে করি, ১০ বছর করে যে সাজা হয়েছে, এটি যথেষ্ট নয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা আশা করব শেখ হাসিনাসহ জুলাই গণহত্যাকারী এবং ওসমান হাদির হত্যাকারী যারা পালিয়ে রয়েছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে। এ সময়ে সেখানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ।

জুলাই শহীদদের স্মরণে ছাত্রদলের মোমবাতি প্রজ্বালন : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করেছে। গতকাল বুধবার প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘আলোয় আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ শীর্ষক এ কর্মসূচিতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, কোরআন তিলাওয়াত, ১ মিনিট নীরবতা পালন এবং মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন নাসিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। অনুষ্ঠানে রাকিবুল ইসলাম রাকিব জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজারের অধিক ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছে। বিশেষ করে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম, শহীদ মুগ্ধ, শহীদ রাব্বিসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১৪২ নেতাকর্মী শহীদ হয়েছে। আমরা তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ অন্যায় ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতের সংগ্রামে প্রেরণা জোগাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের গৌরবময় অর্জন।

৫ দফা দাবি সাবেক সমন্বয়কদের : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ, প্রকৃত নেতৃত্বের স্বীকৃতি এবং ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসাসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক সমন্বয়ক ও সংগঠকরা। গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক নাজমুস সালেহী বলেন, অভ্যুত্থানের প্রায় ২৩ মাস পরও প্রত্যাশিত সংস্কার ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। প্রকৃত ইতিহাসের স্বীকৃতি, ন্যায়বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব।

তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে শহীদ, আহত ও সম্মুখসারির যোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ গেজেট প্রকাশ, বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা, ইউজিসির কাঠামোগত সংস্কার এবং গবেষণায় সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত