হাশরের ময়দানে মহান আল্লাহ সমগ্র মানবজাতিকে একত্র করবেন। সেদিন প্রত্যেক মানুষ তার দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কাজের হিসাব দেবে। কারও প্রতি সামান্যও অবিচার করা হবে না। প্রত্যেকে নিজের কর্মফল অনুযায়ী প্রতিদান লাভ করবে। এই বিচার শেষে মানুষকে তিনটি দলে বিভক্ত করা হবে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা বিভক্ত হয়ে পড়বে তিন দলে।’ (সুরা ওয়াকিয়া ৭)
প্রথম দল হলো ডান পাশের মানুষ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সুতরাং ডান পাশের দল, ডান পাশের দলটি কত সৌভাগ্যবান!’ (সুরা ওয়াকিয়া ৮) এরা সেই সৌভাগ্যবান বান্দা, যাদের আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে। তারা দুনিয়ায় আল্লাহর প্রতি ইমান এনেছে, তার আদেশ মেনে চলেছে এবং নিষিদ্ধ কাজ থেকে দূরে থেকেছে। জীবনের ভুলত্রুটির জন্য তওবা করেছে এবং সৎকাজে প্রতিযোগিতা করেছে। তাদের জন্য থাকবে জান্নাতের অফুরন্ত নেয়ামত, নিরাপত্তা ও চিরস্থায়ী শান্তি। তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে সফলকাম হবে।
দ্বিতীয় দল হলো বাম পাশের মানুষ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর বাম দিকের দল, বাম দিকের দলটি কত হতভাগা!’ (সুরা ওয়াকিয়া ৯) এরা সেই দুর্ভাগা মানুষ, যারা দুনিয়ায় আল্লাহকে অমান্য করেছে, সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে কিংবা গুনাহের জীবনে ডুবে থেকেও সংশোধনের চেষ্টা করেনি। তাদের আমলনামা বাম হাতে দেওয়া হবে। কেয়ামতের দিন তারা গভীর অনুতাপে ভুগবে, কিন্তু তখন অনুতাপ কোনো উপকারে আসবে না। তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি ও ভয়াবহ পরিণতি।
আরেকটি দল হলো অগ্রগামী বা নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের দল। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর অগ্রগামীরাই অগ্রগামী।’ (সুরা ওয়াকিয়া ১০) এরা শুধু নেককারই নয়, বরং ইবাদত, তাকওয়া, ত্যাগ, দান, ধৈর্য ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ক্ষেত্রে সব সময় অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকে। তারা ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি নফল আমলেও যতœবান থাকে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। পরবর্তী আয়াতগুলোতে আল্লাহ জানিয়েছেন, এসব মানুষ তার বিশেষ নৈকট্য লাভ করবে এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ স্থানে অবস্থান করবে।
এই তিন দলের বর্ণনা মানুষের জন্য একটি গভীর শিক্ষা বহন করে। প্রত্যেক মানুষেরই চিন্তা করা উচিত, সে কোন দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য জীবন পরিচালনা করছে। দুনিয়ার সাময়িক সফলতা নয়, প্রকৃত সফলতা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে সৌভাগ্যবানদের কাতারে স্থান পাওয়া। তাই আমাদের উচিত ইমানকে সুদৃঢ় করা, সৎকাজে অগ্রসর হওয়া, গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং প্রতিনিয়ত আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের সংশোধন করা।