স্পেনের পরীক্ষা নেবে অস্ট্রিয়ার রক্ষণ

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৭ এএম

২০১০ সালে শিরোপা জেতার পর প্রতিটি আসরেই অন্যতম ফেভারিট হয়ে বিশ্বকাপে আসে স্পেন। তবে সাফল্যের ছাপ রাখতে পারে না। এবার ইউরোপের পরাশক্তিরা স্বপ্ন বুনছেন এক বিস্ময় বালককে নিয়ে। একসময় যাদের পরিচয় ছিল জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রে ইনিয়েস্তা, ইকার কাসিয়াসদের দল হিসেবে, আজ সেই স্পেনের ঝাণ্ডা ধরেছেন লামিন ইয়ামাল। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে প্রতিভাবান তরুণদের একজন তিনি। অথচ কয়েক বছর আগেও কেউ-ই চিনত না তাকে। আজ বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত তারকা লামিন ইয়ামাল। বয়স এখনো কৈশোরের গণ্ডি পার করেননি, অথচ তার পায়ের জাদু নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বিস্তর, বিশ্বের তাবৎ ফুটবলবোদ্ধারাও তর্কে জড়াচ্ছেন। প্রতিপক্ষের রক্ষণ দেওয়াল বিভ্রান্ত করে এগিয়ে যাওয়া, অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলা পাস কিংবা হঠাৎ করেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়া গোল ইয়ামাল যেন সব বিস্ময়কে ছাপিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর নকআউট ম্যাচের আগে এক সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেন, ‘আমি মনে করি এ বছর বিশ্বকাপ জিতব।’

এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে হলে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে স্পেনকে। তাদের নকআউট পর্বের প্রথম বাধা অস্ট্রিয়া। টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত থেকে এবং গ্রুপ পর্বে একটিও গোল না হজম করার দারুণ রেকর্ড নিয়ে এ লড়াইয়ে নামবেন লা রোজারা। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল এখন পর্যন্ত নিজেদের রক্ষণভাগ ভাঙতে দেয়নি। তবে একই সঙ্গে প্রতিপক্ষকেও চাপে ফেলতে পারেননি তারা। অন্যদিকে অস্ট্রিয়া এ টুর্নামেন্টে এসেছে একেবারে ভিন্ন মানসিকতা নিয়ে। রালফ রাংনিকের শিষ্যরা প্রতিপক্ষের ভুলকে কাজে লাগাতে ওঁৎ পেতে থাকেন। ৪৪ বছর পর নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া দলটি এবার নিজেদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে নামবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ম্যাচে তাদের ওপর চাপ থাকবে না; বরং নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ এটা।

দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যানে স্পেন স্পষ্টভাবে এগিয়ে। এখন পর্যন্ত ১৬ বারের লড়াইয়ে স্পেন জিতেছে ৯ বার, অস্ট্রিয়া ৪ বার এবং ৩ ম্যাচ ড্র হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে গোলরক্ষক উনাই সিমোন টানা ৪২৯ মিনিট ধরে কোনো গোল হজম করেননি। তবে তাদের আক্রমণভাগ এখনো জ্বলে উঠতে পারেনি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৭৪ শতাংশ বল দখল এবং ২৭টি শট নিয়েও মাত্র ৭টি শট লক্ষ্যে রাখতে পারে। সেখান থেকে কোনো গোল আদায় করতে পারেনি ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা। আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে না পারায় সমালোচিত হতে হচ্ছে তাদের। তবে ব্যর্থতা মেনে নেওয়ার পাশাপাশি ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ও ঝরেছে ইয়ামালের কণ্ঠে ‘এটা সত্যি যে সবাই আমাদের কাছ থেকে ভালো খেলার প্রত্যাশা করে, কিন্তু আমরা ভিন্ন ভিন্ন ধরনের দলের মুখোমুখি হয়েছি, যাদের কেউ-ই ইউরোপীয় ছিল না। ম্যাচগুলো বেশ কঠিন ছিল, বিশেষ করে তৃতীয় ম্যাচটি (উরুগুয়ের বিপক্ষে)। সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচটি ভালো ছিল, আর কেপ ভার্দের বিপক্ষে ছিল আমাদের শুরু ম্যাচ।’

ইয়ামাল এখনো পুরোপুরি ফিট নন। নিকো উইলিয়ামসও চোটে ভুগছেন। বিকল্প উইং কম্বিনেশন ব্যবহার করতে হচ্ছে স্পেনকে। গাভি ও ফেরান তোরেস আক্রমণের গতি আনতে পারছেন না। অস্ট্রিয়ার দিক থেকে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের সংগঠিত রক্ষণ এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক। প্রতিপক্ষের পায়ে বল থাকলেও নিজেদের শৃঙ্খলা ভাঙে না তারা। রাংনিকের দল সাধারণত লো ব্লকে দাঁড়িয়ে স্পেনের মতো দলকে বাইরে থেকে আক্রমণে বাধ্য করে এবং সুযোগ পেলেই দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে যায়। এই কৌশল সাবেক বিশ্বজয়ীদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে। কারণ তারা দীর্ঘ সময় বল ধরে খেললেও প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ ভাঙতে সমস্যা হবে। তাই মূল লড়াই হবে স্পেনের বলদখল এবং অস্ট্রিয়ার রক্ষণের মধ্যে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত