মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ শুক্রবার(৩ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নেওয়া হয়েছে। শনিবার সেখানে তার রাষ্ট্রীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় জানাজায় দেশ-বিদেশ থেকে লাখো মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ জনগণকে ব্যাপকভাবে জানাজায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই উপস্থিতির মধ্য দিয়েই খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জাতীয় অঙ্গীকার বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে।
গণমাধ্যমের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিন গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কালো পোশাক পরা হাজারো শোকাহত মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছেন। লাল ফুল ও সাদা প্রজাপতির প্রতীকী সাজসজ্জার মধ্যে কফিনটি রাখা হয়।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হওয়ার পর কার্যকর হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই জানাজার প্রস্তুতি চলছে। যুদ্ধের তীব্রতার কারণে আগে জনসম্মুখে শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখা পাকিস্তান জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানাজায় অংশ নেবেন। এছাড়া চীন, আফগানিস্তান এবং ককেশাস অঞ্চলের প্রতিবেশী কয়েকটি দেশও প্রতিনিধি পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার থেকেই গ্র্যান্ড মোসাল্লায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছিল। নিরাপত্তা জোরদার করতে আশপাশের এলাকায় যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। কর্মীরা ফুল দিয়ে পুরো প্রাঙ্গণ সাজিয়ে তোলেন।
৮৬ বছর বয়সী খামেনি তেহরানের কেন্দ্রে তার বাসভবনে চালানো মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। তার মরদেহ তিন দিন গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হবে। একই সঙ্গে হামলায় নিহত তার স্বজনদের মরদেহও সেখানে রাখা হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের ধারণা, জানাজায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে এটি হবে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যানুষ্ঠান। গালিবাফ একে ইরানের ইতিহাসের 'সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি' বলে উল্লেখ করেছেন।
জানাজা উপলক্ষে তেহরানের পাশাপাশি ধর্মীয় নগরী কোম ও মাশহাদেও সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তেহরানের সরকারি ও বেসরকারি অধিকাংশ অফিস বন্ধ থাকবে। নগরীর কেন্দ্রীয় এলাকায় যান চলাচলেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার থেকে তেহরানের আকাশসীমা আংশিক এবং সোমবার পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে।
তেহরানে জানাজা শেষে খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। পরে আগামী ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে। মাশহাদই খামেনির জন্মস্থান।
এদিকে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জনসম্মুখে না আসা খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনি তেহরানের মূল জানাজায় উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ১০০ দেশের প্রতিনিধিদল জানাজায় অংশ নেবে। পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকেও বিপুলসংখ্যক মানুষ তেহরানে পৌঁছাতে শুরু করেছেন।