রোগ নিরাময়ে অর্থোস্কোপিক সার্জারি

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০২:২১ এএম

মানবদেহের কঙ্কালতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিভিন্ন অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট। কোনো কারণে যদি আমাদের শরীরের এই অস্থিসন্ধিগুলো বিশেষ করে কাঁধের ল্যাব্রাম বা পেশি এবং হাঁটুর মিনিস্কাস বা লিগামেন্ট কোনোভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তবে অতীতে বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতো। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসায় এখন আর বড় কোনো কাটাছেঁড়ার প্রয়োজন পড়ে না। আক্রান্ত স্থানটি বড় করে না কেটে শুধু ক্ষুদ্র ছিদ্রের মাধ্যমে বা ‘কী হোল’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভেতরের অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন একজন সার্জন। এ রোগ নির্ণয় এবং নিরাময় পদ্ধতির নামই হলো অর্থোস্কোপিক সার্জারি।

সাধারণত স্পোর্টস ইনজুরি বা খেলাধুলাজনিত আঘাতের কারণে এ লিগামেন্ট বা পেশি ছিঁড়ে যাওয়ার সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। অনেক সময় দেখা যায়, অনেকের হাঁটুর বাটি বা প্যাটেলোফেমোরাল জয়েন্ট ঘন ঘন নিজের জায়গা থেকে সরে যায়, যা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক একটি রোগ। এই রোগেরও স্থায়ী ও সফল চিকিৎসা করা সম্ভব এই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে। এর পাশাপাশি বাতজনিত বা আর্থ্রাইটিসের কারণে যদি জয়েন্টের ভেতরে কোনো ধরনের ক্ষয়সাধন হয়ে থাকে, তবে প্রাথমিক থেকে মধ্যম পর্যায় পর্যন্ত এই পদ্ধতির মাধ্যমে সেটিরও অত্যন্ত কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়।

অর্থোস্কোপিক সার্জারির বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এর মাধ্যমে একই সঙ্গে নিখুঁতভাবে রোগ নির্ণয় করার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাসেবাও প্রদান করা যায়। আর

থেরাপিউটিক বা চিকিৎসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই পদ্ধতির মাধ্যমে হাঁটুর বিভিন্ন ছিঁড়ে যাওয়া লিগামেন্ট বা রগ নতুন করে তৈরি করা হয় এবং কাঁধের ল্যাব্রাম ও ক্ষতিগ্রস্ত পেশি নিখুঁতভাবে মেরামত করা হয়। জয়েন্টের ভেতরে থাকা তরুণাস্থি বা মেনিসকাস ঠিক করার ক্ষেত্রে তা রিপেয়ার করা হয় কিংবা নষ্ট হয়ে যাওয়া ক্ষতিকর অংশটি কেটে ফেলে দিয়ে স্থায়ী সমাধান করা হয়। ফলে রোগীর জয়েন্ট জ্যাম বা লক হয়ে যাওয়ার সমস্যা দূর হয় এবং দীর্ঘদিনের তীব্র ব্যথা দ্রুত কমে আসে। আধুনিক মাইক্রোপাংচার বা মাইক্রোফ্রাকচার প্রযুক্তির সুসমন্বয় ঘটিয়েও এর সফল চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে। এ চিকিৎসায় প্রথাগত ওপেন সার্জারির তুলনায় রোগীর শারীরিক ও মানসিক সুবিধা অনেক বেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত