বয়স বাড়ছে ডিমেনশিয়া ঝুঁকিতে নেই তো

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪০ এএম

ডা. এম. এস. জহিরুল হক চৌধুরী

অধ্যাপক, ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতাল

ডিমেনশিয়া রোগ মূলত স্মৃতিবিভ্রমজনিত। যদিও স্মৃতিবিভ্রম বা ভুলে যাওয়া ডিমেনশিয়া রোগের প্রধান লক্ষণ হলেও আরও অনেক লক্ষণ আছে। যেসব বিষয় বা কাজ ডিমেনশিয়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায় সে সম্পর্কে জানা ও সচেতন হওয়া থাকলে ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিমেনশিয়া হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। ৬৫ বছর বয়সের নিচের মানুষের ডিমেনশিয়া হয় কিন্তু বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে এ রোগ দেখা দেয় এর পর থেকে। ৮০ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রতি ৬ জন মানুষের মধ্যে একজনের ডিমেনশিয়া হতে পারে।

কাদের হয়

          পিতামাতা কিংবা ভাইবোনদের মধ্যে কারও ডিমেনশিয়া রোগ হলে তাদের সন্তান কিংবা অন্য ভাইবোনদের ডিমেনশিয়া রোগ হওয়ার ঝুঁকি সামান্য একটু বেশি থাকে। যদিও এমনটি হবেই এমন কোনো কথা নেই।

          যেসব অসুখে হার্ট, ধমনি বা রক্তপ্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত করে সেই সব রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ডিমেনশিয়া হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট বেশি। এসব অসুখের মধ্যে যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ-রক্তচাপ ও রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি থাকা, স্থূলতা,  হার্টের সমস্যা (যেমন হার্ট অ্যাটাক বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন), স্ট্রোক হওয়া। এমনকি একটানা বিষণœতায় থাকলেও ডিমেনশিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারেন।

          অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অতিরিক্ত মদ্যপান, ধূমপান, চর্বিযুক্ত খাবার, অতিরিক্ত লবণ খাওয়া এবং একেবারেই কোনো ব্যায়াম না করা কিংবা অতি অল্প ব্যায়াম করা এসব কারণেও ডিমেনশিয়া রোগের ঝুঁকি হিসেবে কাজ করে।

ঝুঁকি কমাবেন

নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। অন্তত সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন ৩০ মিনিট করে হাঁটা বা ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতে পারেন। যে সব রোগের জন্য ওষুধ সেবন করছেন সবসময় নিয়মিত রাখুন। অসুখের জন্য নিয়মিত ডাক্তারের চেকআপে থাকুন। ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস

থাকলে তা বাদ দেওয়ার চেষ্টা করুন। স্বাস্থ্যসম্মত সুষম খাবার খান। প্রচুর পরিমাণে তৈলাক্ত মাছ, ফল এবং সবজি খান। উচ্চমাত্রায় স্নেহপদার্থ আছে এমন খাবার বাদ দিন। চিনি ও লবণযুক্ত খাবারের পরিমাণ সীমিত রাখুন। বছরে কমপক্ষে একবার নিজের ওজন, রক্তচাপ, রক্তের চিনি ও চর্বির পরিমাপ মাপুন। সচেতন থাকুন যেন অতিরিক্ত ওজন না বেড়ে যায়। পরিমিত ও সুষম খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত ব্যায়াম চর্চার মাধ্যমে ওজন ঠিক রাখা সম্ভাব। শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে শেষ জীবনে সক্রিয় থাকলে ডিমেনশিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমে। এসব শুধু ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ  রোগের ঝুঁকি কমাবে না; ক্যানসার, স্ট্রোক, হৃদরোগ এসব হওয়ার ঝুঁকিও কমিয়ে আনবে।

চিকিৎসা

ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগ পুরোপুরি ভালো হয়ে যাওয়ার কোনো চিকিৎসা নেই, কিন্তু ডিমেনশিয়া নিয়েও একজন মানুষ ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারেন। কিছু ধরনের ডিমেনশিয়া যেমন আলজাইমার্স ডিজিজের জন্য ওষুধ আছে। এই ওষুধগুলো  রোগীর রোগের লক্ষণগুলোকে সাময়িকভাবে দমিয়ে রাখতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

এছাড়া বিভিন্ন ধরনের থেরাপি, সাহায্য ও আনন্দ উপভোগ করার মতো কার্যকলাপ আছে যা একজন ডিমেনশিয়া রোগীকে ভালোভাবে জীবন কাটাতে সাহায্য করে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো কথা বলার থেরাপি, স্মৃতিচারণ থেরাপি, চেতনা উদ্দীপনা থেরাপি, জীবন নিয়ে গল্প ও প্রশংসাত্মক থেরাপি। এ ছাড়া ঘরে বা বাইরে বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কাজে অংশগ্রহণ। একজন ডিমেনশিয়া রোগী ডিমেনশিয়া অসুখ নিয়েও সমাজে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারেন। যদি তার পরিবার-পরিজন সাহায্য করে। যতটা সম্ভব সবসময় নিজেকে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে সক্রিয় রাখেন সে ব্যাপারে উৎসাহ ও সহযোগিতা দেওয়া। এই সক্রিয় থাকা তাকে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে, দক্ষতা ধরে রাখতে ও স্মৃতি বজায় রাখতে, আত্মবিশ্বাস বাড়াতে, ভালোমতো ঘুম হতে এবং বিষণœতা এড়িয়ে চলতে সাহায্য করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত