আজ স্পেন-পর্তুগাল ব্লকবাস্টার

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:১০ এএম

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ সোমবার রাতে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ইউরোপীয় পরাশক্তি ও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ পর্তুগাল ও স্পেন। টেক্সাসের আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটিকে চলতি বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ‘হাইভোল্টেজ’ ম্যাচ হিসেবে বিবেচনা করছেন ফুটবল বোদ্ধারা। গত বছরের উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালের পর এই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে প্রতিবেশী দুই দেশ। সেবার নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে জিতেছিল পর্তুগাল। তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের আবহ সম্পূর্ণ ভিন্ন।

লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা তাদের রক্ষণভাগ। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে খেলা ৪টি ম্যাচের একটিতেও কোনো গোল হজম করেনি লা রোহা-রা। স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমোন বিশ্বকাপে টানা ৫১৯ মিনিট গোল না খাওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েছেন, যা ১৯৯০ সালে ইতালির ওয়াল্টার জেঙ্গার গড়া ৫১৭ মিনিটের ঐতিহাসিক রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। তরুণ পাউ কুবার্সি এবং অভিজ্ঞ আইমেরিক লাপোর্তের সেন্ট্রাল ডিফেন্স জুটির সঙ্গে দুই ফুল-ব্যাক পেড্রো পোরো ও মার্ক কুকুরেয়া মিলে গড়ে তুলেছেন এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর। এর ঠিক সামনে মাঝমাঠে রদ্রি একাই প্রতিপক্ষের সব আক্রমণ নসাৎ করে দিচ্ছেন। শেষ ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয়ে স্পেন প্রতিপক্ষকে একটি শটও অন-টার্গেট করতে দেয়নি।

স্পেনের এই রেকর্ড-গড়া রক্ষণ ভাঙার মতো সব উপাদানই রয়েছে রবার্তো মার্তিনেজের পর্তুগাল দলে। শেষ ৩২-এর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ১-০ তে পিছিয়ে থেকেও ২-১ ব্যবধানে জয়ী হয়ে তারা নিজেদের গভীরতা ও চারিত্রিক দৃঢ়তা প্রমাণ করেছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, গনসালো রামোস, রাফায়েল লেয়াও এবং ব্রুনো ফার্নান্দেস পর্তুগালের এই আক্রমণভাগে যে বৈচিত্র্য ও গতি রয়েছে, তা স্পেন এখনো এই বিশ্বকাপে মোকাবিলা করেনি।

পর্তুগাল কোচের জন্য আজ সবচেয়ে বড় কৌশলগত সিদ্ধান্ত হবে স্ট্রাইকার হিসেবে কাকে শুরু করাবেন? ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো চলতি বিশ্বকাপে ৩টি গোল করে এখনো সমান বিপজ্জনক। স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমোন নিজেই স্বীকার করেছেন, ‘আজকের ক্রিশ্চিয়ানো হয়তো আগের মতো গতিশীল নন, কিন্তু বক্সের ভেতর ১টি সুযোগ পেলেই তিনি গোল করবেন। অন্যদিকে, রামোস দলে থাকলে পর্তুগালের প্রেসিং ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়, যা স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডারদের চাপে ফেলতে পারে।

বার্সেলোনার ১৭ বছর বয়সী বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল স্পেনের আক্রমণের অন্যতম মূল চাবিকাঠি। তবে পর্তুগালের রক্ষণভাগের নেলসন সেমেদো সতর্ক করে বলেছেন, ‘শুধু ইয়ামালের ওপর নজর দিলে আমরা বিপদে পড়ব, স্পেনের আরও ম্যাচ-উইনার আছে।’ ইয়ামালকে আটকানোর মূল দায়িত্ব থাকবে পিএসজি-র বাঁ-হাতি ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেসের ওপর। মেন্দেস এই ম্যাচটিকে পর্তুগালের জন্য এই সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

স্পেন বরাবরের মতোই বল পজেশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে। পর্তুগালের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে স্পেনের সঙ্গে পজেশনের লড়াইয়ে না গিয়ে, ডিফেন্সে সলিড থাকা এবং ট্রানজিশনে দ্রুত কাউন্টার-অ্যাটাক করা। বিশেষ করে সেট-পিস বা কর্নার থেকে রোনালদো ও রামোসের আকাশপথের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্পেনের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করতে পারে সেলেসাওরা।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে শেষ ১২টি মুখোমুখি লড়াইয়ের মধ্যে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে পর্তুগাল জিতেছে মাত্র ১টি (৫টি জয় স্পেনের, ৬টি ড্র)। তবে আজ যেকোনো এক দলকে বিদায় নিতেই হবে। স্পেন যদি আজ অপরাজিত থাকে, তবে তারা নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড স্পর্শ করবে। অন্যদিকে, ২০০৬ সালের পর বিশ্বকাপে কখনো টানা দুটি নকআউট ম্যাচ জিততে না পারা পর্তুগাল চাইবে সেই জুজু কাটিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত