ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে হলে

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৪ এএম

তরুণদের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি, স্থানভেদে শ্রমবাজারের তারতম্য প্রভৃতি কারণে বিশ্বজুড়েই ফ্রিল্যান্সিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। কিন্তু যথাযথ প্রস্তুতি ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে অনেকেই সম্ভাবনাময় এ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারছেন না। লিখেছেন ফয়জুর রহমান

ফ্রিল্যান্সিং

ফ্রিল্যান্সিং হলো মাসিক বা বার্ষিক কোনো চুক্তিতে আবদ্ধ না হয়ে কাজ বা অ্যাসাইনমেন্ট অনুযায়ী অর্থের বিনিময়ে কাজ করা। এই কাজের স্থান নিজের ঘরে যেমন হতে পারে তেমনি নিয়োগদাতার অফিসে বা কর্মস্থলেও পারেন। নিয়োগদাতা স্থানীয় বাজারের হতে পারেন আবার বৈশি^ক বাজারেরও হতে পারেন। তবে বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং বলতে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে ঘরে বসে অনলাইনে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজের চুক্তি করে এবং কাজ শেষ করে অনলাইনেই ক্লায়েন্টের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমে আয় করাকে বোঝায়।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুবিধা

ফ্রিল্যান্সিংয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এখানে ধরাবাধা নিয়ম নেই। কাজ করার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা রয়েছে। কাজের নির্দিষ্ট সময় নেই। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করে নিয়োগদাতার কাছে পৌঁছে দিলেই হয়। ফলে যদি আপনি ওই নির্দিষ্ট কাজে দক্ষ হন তাহলে দ্রুত কাজ শেষ করে নিজের শখের জন্য সময় বের করতে পারবেন। একটি প্রথাগত চাকরির তুলনায় ফ্রিল্যান্সিংয়ে অনেক বেশি টাকা আয় করা সম্ভব হয়। কাজের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। আর যত বেশি কাজ তত বেশি আয়। অর্থাৎ কম সময় ব্যয় করে বেশি টাকা আয় করা সম্ভব হয়। ঘরে বসে কাজ করা যায়। নির্ধারিত অফিসের প্রয়োজন হয় না। কোনো ধরনের অর্থ ইনভেস্টমেন্ট করা লাগে না।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের অসুবিধা

কাজের কোনো নিরাপত্তা বা গ্যারান্টি নেই। কাজের বাজারে নির্দিষ্ট ওই কাজ না থাকলেও সারা মাসে হয়তো একটি কাজ পাবেন না। ফ্রিল্যান্সিং অপ্রচলিত পেশা বলে অধিকাংশ মানুষ ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টা বোঝে না, একে সম্মানজনক পেশা হিসেবে মনে করে না। দেশের বাইরের বা দূরবর্তী নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সাক্ষাতে যোগাযোগের কোনো সুযোগ থাকে না। উপার্জিত অর্থ দেশে আনার ক্ষেত্রে অল্প হলেও কিছু জটিলতা এখনো আছে আমাদের দেশে।

ফ্রিল্যান্সিং কাদের উপযোগী

যারা কমপক্ষে একটি কাজে অত্যন্ত দক্ষ, যাদের কাজ শেখার প্রচুর আগ্রহ রয়েছে, যারা নতুন মাধ্যমে কাজ করতে দ্বিধাবোধ করেন না ফ্রিল্যান্সিং তাদের উপযোগী। ফ্রিল্যান্সিংয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করতে হয় বলে একজন ফ্রিল্যান্সারকে অবশ্যই ইংরেজি দক্ষ হতে হয়। এ ছাড়া যেসব দেশের নাগরিকদের আধিক্য মার্কেটপ্লেসে বেশি দ্রুত তাদের ভাষা শিখে নিতে পারেন, যারা তারা এ ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকেন।

ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে কোর্স

ফ্রিল্যান্সিং কোর্স নামে কিছু নেই। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কোনো ধরনের কোর্স করার প্রয়োজন হয় না। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কোনো একটি বিষয়ে দক্ষতা প্রয়োজন। যেকোনো একটি বিষয়ে আপনার দক্ষতা থাকলে আপনি নিজে নিজে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খুলে নিজে নিজে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন। বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খোলা, পোর্টফোলিও সাজানো, জব অ্যাপ্লাইয়ের নিয়ম প্রভৃতি বিষয় আপনি অনলাইনে বিভিন্ন ব্লগ ও ইউটিউব থেকে শিখে নিতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়ার জন্য কোনো একটি বিষয়ে আপনাকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আপনার যদি কোনো বিষয়ে দক্ষতা না থাকে, তাহলে আপনি কোনো প্রতিষ্ঠান হতে সেই বিষয়ে কোর্স করে দক্ষতা অর্জন করে নিতে পারেন। মার্কেটপ্লেসে ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও কনটেন্ট রাইটিং প্রভৃতি বিষয়ে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ফ্রিল্যান্সিংয়ে ভালো করতে যেকোনো একটি বিষয়ে নিজের দক্ষতা গড়ে তুলুন। 

নিজের লক্ষ্য ঠিক করে নিন

ফ্রিল্যান্সিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়ার প্রথম ধাপে ঠিক করে নিতে হবে আপনি ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে নিয়ে ফুল টাইম কাজ করবেন নাকি চাকরি বা অন্যান্য পেশার পাশাপাশি পার্ট টাইম ফ্রিল্যান্সিং করবেন। আপনি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে চাইলে ফ্রিল্যান্সিংকে ফুল টাইম জব হিসেবে বেছে নিতে হবে। পক্ষান্তরে চাকরির পাশাপাশি আপনার মেধাকে কাজে লাগিয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বাড়তি টাকা আয় করতে চাইলে কাজ করার জন্য আপনাকে নির্ধারিত কিছু সময় বের করে নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে ক্লায়েন্ট যেন আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে তা আপনাকেই নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ক্লায়েন্ট আপনার ওপর নির্ভর করতে দ্বিধা করবে। আপনারও কাজ পেতে অসুবিধা হবে।

কাজের ক্ষেত্র ঠিক করে নিন

কোন বিষয়ে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করবেন তা আপনাকে ঠিক করে নিতে হবে। যে বিষয়ে আপনার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আছে, সেটিকেই কাজের ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিতে পারেন। আপনি যদি কোনো বিষয়ে অভিজ্ঞ নাও হয়ে থাকেন, তাহলে কোন বিষয়টি শিখবেন ও কোন বিষয়ে শেখার আগ্রহ আছে, সেটা আপনাকেই ঠিক করে নিতে হবে। আপনি যে বিষয়ে আগ্রহী সে বিষয়টিকেই নিজের কাজের ক্ষেত্র হিসেবে নির্বাচন করতে পারেন। এতে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে আপনার আগ্রহের বিষয়টির মার্কেটপ্লেসে চাহিদা কেমন, পেমেন্ট কেমন ইত্যাদি বিষয়ও আপনাকে বিবেচনায় রাখতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং সাইট ঠিক করে নিন

অনলাইনে হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান (ক্লায়েন্ট) তাদের কাজ করানোর জন্য ফ্রিল্যান্সার খোঁজে। আপনাকে অবশ্যই সে ধরনের জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে হবে। কারণ জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসে বেশি ক্লায়েন্ট থাকে, তাই বেশি কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু এলোমেলোভাবে অনেক মার্কেটপ্লেসে সময় দিলে তা কাজে আসে না। কাজের শুরুতে একটি বা দুটি মার্কেটপ্লেস ঠিক করে নিন, যেখানে আপনি সময় ও মনোযোগ দেবেন। জনপ্রিয় একটি বা দুটি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে দক্ষতা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করতে পারলে অল্প সময়ে সেই মার্কেটপ্লেসে নিজের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে বিশ্বস্ততা ও কাজের কোয়ালিটি মেনটেন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মার্কেটপ্লেসে আপনার সুনামের ওপরই নির্ভর করে আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের সফলতা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত