মনোযোগ বাড়বে মেডিটেশনে

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ০৭:৪০ এএম

আধুনিক জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা। দ্রুত গতির ইন্টারনেটকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে একটি বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখার শিল্প ভুলতে বসেছে এ যুগের মানুষ। কিন্তু মনোযোগকে বলা হয় সাফল্যের চাবিকাঠি। তাই নির্দিষ্ট বিষয়ে মনোযোগ কীভাবে ধরে যায় তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে অনুসন্ধান। গবেষক ও বিজ্ঞানীরা দেখেছেন মনোযোগ বৃদ্ধিতে অব্যর্থ হলো মেডিটেশন। মনোযোগ বৃদ্ধি ছাড়া আরও উপকারিতা রয়েছে প্রাচীন এই বিদ্যার।

মনোযোগ বৃদ্ধিতে মেডিটেশন

কোনো কাজে মনোযোগ হ্রাস পায় নানা কারণে। মনের অস্থিরতা, শারীরিক অসুস্থতা, রাগ-ক্ষোভ, ভয়, ক্লান্তি নানাবিধ কারণে মনোযোগ ব্যাহত হয়। মেডিটেশন এসব নেতিবাচক আবেগ ও প্রতিক্রিয়া দূর করে মনোযোগ স্থাপনের বাধা দূর করে। পড়ার সময় মনোযোগ না থাকলে সারাক্ষণ বসে পড়লেও কোনো লাভ নেই। মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে মেডিটেশন। প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে দুবার মেডিটেশন করলে মনোযোগ দ্বিগুণ পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। মেডিটেশন চিন্তাশক্তিকে একটি বিষয়ে কেন্দ্রীভূত করতে শেখায়। যার ফলে যেকোনো একটি বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ফলে পড়ার সময় অন্য সব চিন্তা মস্তিষ্ক থেকে দূরে থাকে।

ভয়, উদ্বেগ ও ধকল হ্রাস করে : অনেকেই পড়াশোনার চাপে ক্লান্তি অনুভব করে। অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার এই ধকল দূর করার ভালো উপায় হলো মেডিটেশন। মেডিটেশনের ফলে অনুশীলনকারীর ভয়, উদ্বেগ ও ধকল হ্রাস পায়। এ ছাড়াও মেডিটেশন মস্তিষ্কের আলফা ওয়েভ নিঃসরণ বৃদ্ধি করে, যা দুশ্চিন্তা, দুঃখ ও রাগের মতো অনুভূতিগুলো কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

মস্তিষ্ককে সর্বোচ্চ ব্যবহার উপযোগী করে : ভালো থাকতে শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি মনকেও সুস্থ রাখতে হবে। আর এই সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে মেডিটেশন। মেডিটেশনের মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্ক অপ্রয়োজনীয় সবকিছু থেকে নিজেকে আলাদা করে নির্দিষ্ট বিষয়ে নিমগ্ন হয় এবং মস্তিষ্কের ক্ষমতাকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ও নিখুঁতভাবে ব্যবহার করতে শেখে।

আইকিউ বাড়ায় : মেডিটেশন আইকিউ বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত মেডিটেশন করার ফলে স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি ও নতুন কিছু শেখার ক্ষমতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।

উচ্চ-রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে : মাত্র ৩ মাস নিয়মিত মেডিটেশন উচ্চ-রক্তচাপের ঝুঁকি কমিয়ে আনে। নিয়মিত মেডিটেশন ক্লান্তি ও অবসন্নতা দূর করে, ফলে পুরো উদ্যমে পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজ করা সম্ভব হয়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় : যারা নিয়মিত মেডিটেশন করে তাদের দেহে অ্যান্টিবডির পরিমাণ অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি থাকে। ভালো পড়াশোনার পূর্বশর্ত হলো শারীরিক সুস্থতা। যতই ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হোক না কেন, শারীরিকভাবে সুস্থ না থাকলে কখনোই পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব হয় না। মেডিটেশন মানসিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতেও সাহায্য করে।

আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়ে : অনেক অভ্যাস আছে যেগুলো ক্ষতিকর জেনেও সহজে ত্যাগ করা সম্ভব হয় না। এর কারণ যথেষ্ট ইচ্ছাশক্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাব। মেডিটেশনের ফলে আত্মনিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পায় এবং বাজে অভ্যাসগুলো সহজেই ত্যাগ করা সম্ভব হয়। বিষণœতায় আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রে মেডিটেশন অনেকটা অহঃর-উবঢ়ৎবংংরড়হ ওষুধের মতো কাজ করে।

কীভাবে করবেন মেডিটেশন

সময় ও স্থান নির্ধারণ : দিনের শুরুতে (সকালে) মেডিটেশন করা সবচেয়ে ভালো, তবে দিনের যেকোনো সময় শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে মেডিটেশন করতে পারেন।

আরামদায়ক ভঙ্গি : মেডিটেশনের জন্য আরামদায়ক আসন বেছে নিন। মেঝেতে মাদুর বা কার্পেটের ওপর বসতে পারেন। চেয়ারে মেরুদ- সোজা রেখে বসতে পারেন। হাতগুলো আলতোভাবে কোলের ওপর বা হাঁটুর ওপর রাখুন। চোখ বন্ধ রাখুন।

শ্বাস-প্রশ্বাসে মনোযোগ দিন : নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে বসে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিন। শরীরে বাতাসের আসা যাওয়া লক্ষ্য করুন। নাক দিয়ে বাতাস শরীরে প্রবেশ করা অনুসরণ করুন। কল্পনা করুন বাতাস নাক দিয়ে ঢুকছে, ফুসফুসে প্রবেশ করছে এবং বের হয়ে আসছে। মন অন্যদিকে চলে গেলে, জোর না করে শান্তভাবে পুনরায় শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ ফিরিয়ে আনুন।

মেডিটেশনের সময় নানা চিন্তা মনে আসতে পারে। চিন্তাকে আটকানোর চেষ্টা করবেন না। একজন নিরপেক্ষ দর্শকের মতো চিন্তাগুলোকে আসতে দিন এবং চলে যেতে দিন। শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ নিবদ্ধ করুন।

সময়কাল : শুরুতে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ মিনিট মেডিটেশন করাই যথেষ্ট। ধীরে ধীরে সময় বাড়াতে পারেন। সহজে মেডিটেশন গাইডেড মেডিটেশন (Guided Meditation) অনুসরণ করতে পারেন। গাইডেড মেডিটেশন হলো নেপথ্যে একজন দক্ষ মেন্টরের নির্দেশনা অনুসরণ করে মেডিটেশন অনুশীলন করা।

কৃতজ্ঞতা : কোয়ান্টাম মেথড-মহাজাতক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত