নাহিদ রানার ৬ উইকেটের সম্মান রাখতে পারলেন না ব্যাটাররা

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:১১ পিএম

একমাত্র টেস্ট ম্যাচে মাত্র আড়াই দিনে হার। অনেকেই জিম্বাবুয়ের কাছে বাংলাদেশের এই পারফরম্যান্সকে নিছক অঘটন হিসেবে দেখেছেন। এবার ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। একদিকে টানা ৪টি সিরিজ জিতে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজরা, অন্যদিকে ৩০৯ দিন পর এই সংস্করণে খেলতে নামে জিম্বাবুয়ে। ওয়ানডেতে তারা সর্বশেষ খেলেছিল ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। অথচ তাদের কাছে টেস্টের মতো ওয়ানডে সিরিজও হার দিয়ে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ দলের।

আজ হারারেতে রেকর্ডগড়া বোলিং করেন নাহিদ রানা। পেসের আগুনে স্বাগতিকদের ব্যাটিং বিভাগ ধসিয়ে দেন তিনি। এই ডানহাতি গতিতারকা ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে প্রথমবারের মতো ২১ রানে ৬ উইকেট নেন। এটা ওয়ানডেতে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সেরা বোলিংয়ের কীর্তিও। ওয়ানডেতে মাত্র ১৪ ম্যাচে এটি তার তৃতীয় ফাইফার। বিশ্বে এর থেকে কম ম্যাচ খেলে এই কীর্টি আছে কেবল মুস্তাফিজুর রহমানের (৯ ম্যাচ)। নাহিদের বোলিং তোপে আগে ব্যাট করে মাত্র ১৪১ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। তবে সহজ লক্ষ্য তাড়ায়ও ব্যর্থ বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগ। ১১৬  রানে অলআউট হয়। এতে ২৫ রানের জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারই দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি। তানজিদ ৮, সৌম্য সরকার ৬ ও নাজমুল হোসেন করেন ৩ রান। ১৭ রানে এই তিনজনকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে সফরকারীরা। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৪৯ রান যোগ করেন তাওহিদ হৃদয় (২৫) ও নুরুল হাসান সোহান। এই জুটি ভাঙলে মোসাদ্দেক হোসেন (৩) ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ (১০) দায়িত্ব নিতে পারেননি। সপ্তম ব্যাটার হিসেবে ইনিংস সর্বোচ্চ ৩১ রানে আউট হলে জয়ের শেষ সম্ভাবনাটাও শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের। রিশাদ হসেন ও তাসকিন আহমেদরা শুধু জয়ের ব্যবধান কমান।

এর আগে টস জিতে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। যদিও উদ্বোধনী জুটিতে ভালো শুরু পায় জিম্বাবুয়ে। ব্রায়ান বেনেট ও বেন কারেন যোগ করেন ৩৬ রান। এই জুটি অবশ্য ভাঙতে পারত দলীয় ১৪ রানেই। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে তাসকিনের বলে বেনেটের সহজ ক্যাচ ছাড়েন রিশাদ। সুযোগ পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি জিম্বাবুয়ের এই ব্যাটার। ব্যক্তিগত ১৭ রান করে তাসকিনেরই শিকারে পরিণত হন তিনি। এর ঠিক দুই বল আগে রান আউট হন কারেন (১৮)।

ইনিংসের সপ্তম ওভারে দুই ওপেনার আউট হওয়ার পর ধস নামে স্বাগতিকদের ব্যাটিং বিভাগে। অভিজ্ঞ ক্রেইগ আরভিনকে রানের খাতা খুলতে দেননি তাসকিন। এরপর দৃশ্যপটে নাহিদ। একে একে ফেরান সিকান্দার রাজা (১), ওয়েসলি মাধেভেরে (০), ক্লাইভ মাডান্ডে (২), ইনোসেন্ট কাইয়া (২৬) ও ব্র্যাড ইভান্সকে (৩)। এদের মধ্যে প্রথম চার ব্যাটারকে ক্যাচ এবং শেষের জনকে এলবিডব্লিউ করে আউট করেন নাহিদ।

৭০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে প্রতিরোধ গড়ে জিম্বাবুয়ে। অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভার সঙ্গে ৬৩ রানের জুটি গড়ে দলকে টেনে তোলেন নিউম্যান ন্যামহুরি। এর আগে ২০২২ সালেও বাংলাদেশের বিপক্ষে দশম উইকেট জুটিতে ৬৮ রান করেছিলেন দুজন। এবার ২১ রানে থাকা এনগারাভাকে বোল্ড করে এই জুটিও ভাঙেন নাহিদ। শেষ ব্যাটার হিসেবে ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৩ রান করে মিরাজের শিকার হন ন্যামহুরি। 

স্কোর - 

জিম্বাবুয়ে : ১৪০ অলআউট, ৩৬.৪ ওভারে (ন্যামহুরি ৩৩, এনগারভা ২৭, কাইয়া ২৬; নাহিদ ৬/২১, তাসকিন, ২/৩২)
বাংলাদেশ : ১১৬ অলআউট, ৩৩.১ ওভারে (সোহান ৩১, হৃদয় ২৫, মিরাজ ১০; এনগারভা ৩১, ইভান্স ৩/৩৪)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত