বিশ্বমঞ্চে হালান্ডের রাজত্ব

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩১ এএম

৭৮ মিনিট পর্যন্ত মনে হচ্ছিল, ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের মতো মাঠেই নামেননি আর্লিং হালান্ড। ব্রাজিলের দুই অভিজ্ঞ সেন্টার-ব্যাক মার্কিনিওস আর গ্যাব্রিয়েলের কড়া নজরে এমনভাবে ছিলেন যে, মাঠে তার উপস্থিতির ছাপ বোঝা যাচ্ছিল না। পুরো ম্যাচে বল ছুঁয়েছেন মাত্র ৩০ বার। প্রতিপক্ষের বক্সের মধ্যে চারবার। কিন্তু ফুটবল বহুবার প্রমাণ করেছে, নরওয়ের গোলমেশিনকে থামাতে শুধু বল থেকে দূরে রাখলেই হবে না। ওঁত পেতে থাকা ক্ষুধার্ত বাঘের মতো শিকারের সন্ধান পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়বে। আর এ শিকার যখন পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, তখন ইতিহাসও নতুন করে লেখা হয় হালান্ডের নামে।

অবশেষে এই দানবের ঘুম ভাঙে ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে। শরীরে আঠার মতো লেপ্টে থাকা গ্যাব্রিয়েলকে ফাঁকি দিয়ে হেডে প্রথম গোল করে লিড এনে দেন নরওয়েকে। এরপর যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে থেকে বুলেটগতির নিচু শটে দ্বিতীয়টি। ১১ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া আঘাতে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে বিদায় করে প্রথমবারের মতো নরওয়েকে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেন তিনি। এ বিশ্বকাপে হালান্ডের পারফরম্যান্স এখন ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। এখন পর্যন্ত তার গোলসংখ্যা ৭টি। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসির সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন।

নিজের শক্তি আর সামর্থ্যরে ওপর বিশ্বাস রেখেই ছুটে ছুটে চলা হালান্ড বলেন, ‘এ টুর্নামেন্টে কয়েকবারই আমি নিজের সেরা খেলাটা খেলেছি। মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমি আবারও নতুন এক শিখরে উঠছি। এক বা দুটি সুযোগ পেলেই সাধারণত আমি গোল করি। মূল বিষয় হলোÑ মনোযোগ ধরে রাখা এবং যে সুযোগগুলো পাই, সেগুলো কাজে লাগানো।’

অভিষেক বিশ্বকাপেই হালান্ডের ৭ গোল ১৯৭৪ সালে গ্রেগরজ লাতোর পর সর্বোচ্চ। আরও অবাক করা তথ্য, নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই তিনি ছাড়িয়ে গেছেন মেসি (১), এমবাপ্পে (৪) ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর (১) অভিষেক বিশ্বকাপের সম্মিলিত (৬টি) গোলের যোগফলকে। ব্রাজিলের বিপক্ষে তার এই জোড়া গোল ছিল চলতি বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো এক ম্যাচে একাধিক গোল করার কীর্তি। বিশ্বকাপের এক আসরে এমন অর্জন আছে শুধু জুস্ত ফঁতেন ও শান্দর কচিসের। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে এক আসরে চারটি ম্যাচজয়ী গোল করা ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ ফুটবলারও হালান্ড।

তবে সংখ্যার চেয়েও বেশি বিস্ময় জাগায় তার পারফরম্যান্স। মাত্র ১৮টি শট থেকে ৭ গোল, অর্থাৎ ৩৯ শতাংশ শটই জালের ঠিকানা খুঁজে নিয়েছে। ১৯৮৬ সালে গ্যারি লিনেকারের পর এক বিশ্বকাপে অন্তত ১৫টি শট নেওয়া ফুটবলারের মধ্যে এটিই সবচেয়ে সেরা গড়। শুধু তাই নয়, গড়ে প্রতি ১৪ বার বল স্পর্শেই একটি করে গোল করছেন হালান্ড, যা গত ৬০ বছরে এক বিশ্বকাপে অন্তত তিন গোল করা কোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই ছন্দ ধরে রাখতে পারলে বিশ্বকাপ শেষে ফুটবল হয়তো পেয়ে যাবে আরেকজন কিংবদন্তিকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত