চতুর্থ দিনের মতো গতকাল বুধবার দিনব্যাপী রাঙ্গামাটিতে টানা বর্ষণ অব্যাহত ছিল। এতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। এ ছাড়া খাগড়াছড়ি-সাজেকের একাধিক স্থানে বন্যার পানিতে রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় আটকা পড়েছে পাঁচ শতাধিক পর্যটক। ভারী বর্ষণে সড়কে কাঁদামাটির কারণে গতকাল চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কে যাত্রীবাহী যান চলাচলও বন্ধ ছিল।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ধসে ঝুঁকি এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদে আশ্রয়ে রাখতে প্রশাসন থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে ২১০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। যেখানে গতকাল রাঙামাটি সদর, বাঘাইছড়ি, কাউখালী ও কাপ্তাইÑ চার উপজেলার ৭৪২ জন অবস্থান করছে। তাদেরকে দুপুর ও রাতে খাবার দেওয়া হয়েছে। এদিকে টানা বর্ষণের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী সড়ক ও পৌর এলাকার উগলছড়ি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের উগলছড়ি, বেপারী পাড়া, নিউলাইল্ল্যা ঘোনা এবং পৌরসভার বটতলী, মাদ্রাসা পাড়া, হাজী পাড়ার কিছু অংশ পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
অন্যদিকে সাজেকে ঘুরতে গিয়ে আটকা পড়েছেন পাঁচ শতাধিক পর্যটক। গত মঙ্গলবার পর্যটকরা সাজেকে যাওয়ার পর গতকাল বুধবার সকালে সাজেক থেকে ফেরার কথা থাকলেও খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের একাধিক স্থানে বন্যার পানির কারণে যান চলাচল বন্ধ থাকায় তারা সাজেক ত্যাগ করতে পারেনি।
সাজেকের রিসোর্ট ব্যবসায়ী মির্জা মুসফেকুর সালেহীন বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাজেকের সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে পর্যটক ও স্থানীয়দের সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হলেও পানি নেমে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানান, প্রশাসন থেকে গত মঙ্গলবার রাতে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিলেও এর আগে সকালে পাঁচ শতাধিক পর্যটক সাজেকে আসে। কিন্তু গতকাল তারা ফেরত যেতে না পারায় তাদের থেকে আলাদাভাবে সাজেকে থাকার কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা। অসচেতনতার কারণে তারা ঘর ছেড়ে আসতে চাইছে না। আমাদের সব ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তাদের বুঝিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া সরকার এই দুর্যোগ মোকাবিলায় যথেষ্ট ত্রাণ বরাদ্দ দিয়েছে।’