দাতা দেশের বহুপাক্ষিক অবদান ৩০% কমার আশঙ্কা

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৪ এএম

ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন, অনুদান বাজেট হ্রাস এবং দাতা দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান রাজস্ব চাপের ফলে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে প্রধান দাতা দেশগুলোর বহুপাক্ষিক অবদান ২৩ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো জলবায়ু অর্থায়ন, সহজ শর্তে ঋণ এবং এলডিসি উত্তরণসংক্রান্ত অর্থায়নে তীব্র সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

গতকাল বুধবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) যৌথ উদ্যোগে ভার্চুয়াল সংলাপে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়। ‘ওইসিডি বহুপাক্ষিক উন্নয়ন অর্থায়ন ২০২৬ প্রতিবেদন (এমডিএফআর) : দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এই অধিবেশনে শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ২০২৪ সালেই প্রায় ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক বহুপাক্ষিক অনুদান কমেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রধান দাতা দেশগুলোর সামগ্রিক অবদান ২৩ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাওয়ার পূর্বাভাস। কেন্দ্রীয় বহুপাক্ষিক সংস্থার বাজেট কর্তনের কারণে ‘রিভার্স লিভারেজ ইফেক্ট’র সৃষ্টি হবে, যা সামগ্রিক ডেলিভারি চেইন এবং মাঠপর্যায়ের প্রকৃত উন্নয়ন কর্মকা-কে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করবে।

ওইসিডির গবেষক লিওনার্দো আলটিয়েরি জানান, বৈশ্বিক বহুপাক্ষিক উন্নয়ন অর্থায়ন ব্যবস্থা বর্তমানে সম্পদ সংকোচনের এক ভিন্ন ও জটিল পর্যায়ে প্রবেশ করছে। ২০২৪ সালে মূল এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে বরাদ্দ করা উভয় ধরনের অবদান হ্রাস পাওয়ার কারণে মাত্র এক বছরের ব্যবধানেই বৈশ্বিক বহুপাক্ষিক অনুদান প্রায় ১৫ শতাংশ কমে গেছে।

বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এই প্রতিবেদনটিকে কেবল সাহায্য হ্রাসের সতর্কতা হিসেবে দেখা উচিত নয়, বরং ‘আগামী দশকগুলোতে কীভাবে উন্নয়নে অর্থায়ন করা হবে তা পুনর্ভাবনা করার একটি আহ্বান’ হিসেবে নেওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ, পুঁজিবাজার সংস্কার, বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি বহুমুখী অর্থায়ন কৌশল গ্রহণ করছে। বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোকে জলবায়ু, খাদ্য এবং জ্বালানি সংকটের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর বাস্তব পরিস্থিতির প্রতি সাড়া দিয়ে তাদের ‘নৈতিক কর্তৃত্ব’ পুনরুদ্ধার করার আহ্বান জানান তিনি।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বৈশ্বিক বহুপাক্ষিক উন্নয়ন অর্থায়ন ব্যবস্থা এখন একটি ঐতিহাসিক মোড়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ পর্যন্ত অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক খাতে উন্নয়ন অর্থায়ন থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছে। তবে বৈশ্বিক অর্থায়নের এই নেতিবাচক উল্টো গতি বাংলাদেশের আসন্ন এলডিসি উত্তরণের সময়ে নতুন এবং জটিল চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, যা টেকসই প্রবৃদ্ধিকে ব্যাহত করার ঝুঁকি রাখে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত