যুদ্ধবিরতি শেষ, তবু আলোচনায় রাজি ট্রাম্প; দাবি ইরানের

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী তেহরান নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছিল বলে দাবি করেছে ইরান। গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ওই প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আকস্মিক শেষ করার একতরফা ঘোষণা দেন।

ট্রাম্পের এ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে আজ শনিবার (১১ জুলাই) নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। এদিকে যুদ্ধবিরতি শেষ করার ঘোষণা দিলেও ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছেন।

‘ইরান যুদ্ধ’ অবসানে এবং মধ্যপ্রাচ্যে একটি স্থায়ী শান্তির পথ খুঁজে পেতে আলোচনার জন্য গত মাসের মাঝামাঝিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। কিন্তু তাতে হামলা ও পাল্টাহামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। উভয়পক্ষ মাঝেমধ্যেই এ হামলা ও পাল্টাহামলায় জড়াচ্ছে এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি শেষ করার ঘোষণার পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আবার তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আবার পূর্ণমাত্রায় আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আজ নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি পোস্ট যুদ্ধরত দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। পোস্টে ইরানকে হুঁশিয়ার করে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি তাঁকে হত্যার চেষ্টা করে, তবে দেশটিকে ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেবেন’ তিনি।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে আরও লেখেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আমাদের কাছে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের খুব স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে!’

জবাবে আজ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘তেহরান এখন পর্যন্ত নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে; তথাকথিত মার্কিন অর্থমন্ত্রীর মতো নয়, যিনি সমঝোতা স্মারকের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছেন।’

ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, চূড়ান্ত কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান তার বর্তমান পারমাণবিক কর্মসূচির অবস্থা অপরিবর্তিত রাখবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না এবং এ অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক বাহিনীও মোতায়েন করবে না।

আরাগচি আরও বলেন, ‘এই লঙ্ঘন যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি চুক্তিভঙ্গ ও ভুল পদক্ষেপের ধারাবাহিকতার অংশ। বাস্তবতা হলো, চুক্তি কার্যকর রাখতে হলে উভয়পক্ষকেই সমানভাবে তা মেনে চলতে হয়।’

গত মাসের পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি। তবে ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার পর মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে অবস্থান করছে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে এক দফা সরাসরি বৈঠক করেছিল। এ ছাড়া কাতারেও উভয়পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। তবে এর পর থেকে কূটনৈতিক অগ্রগতির আর কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত