বাবা হত্যার প্রতিশোধ নেব : মোজতবা খামেনি

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৬ এএম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ‘নিষ্পাপ রক্তের’ প্রতিশোধ নেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। বাবার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর দেওয়া প্রথম বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, এই প্রতিশোধ গ্রহণ শুধু পরিবারের তার সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি ইরানি জাতির ইচ্ছা। গতকাল শনিবার ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা এই লিখিত বার্তা প্রকাশ করে। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার কয়েক দিন পর এমন বিবৃতি দেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় সমবেত ইরানিরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার দাবিতে  প্রকাশ্য স্লোগান দেওয়ার পর তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে ইসরায়েলও ট্রাম্পকে সতর্ক করে জানিয়েছিল, তেহরান প্রশাসন তাকে হত্যার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে সক্রিয় রয়েছে।

শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের নেতৃত্বের কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। এতে ইরানকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিতে বলা হয়েছে যে হরমুজ প্রণালি খোলা আছে এবং তারা আর বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালাবে না। হোয়াইট হাউজ আরও চায়, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো ভুল ছিল বলে ইরান প্রকাশ্যে স্বীকার করুক।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা কমানো এবং নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে আলোচনার জন্য গতকাল কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরান সফর করেছে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আজ ওমান সফরে গেছেন। এদিকে, কাতারের রাজধানী দোহা ইরান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।

যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় বসার অনুরোধ করেছে এমন দাবি নাকচ করেছে ইরান। দেশটির দাবি, তেহরান ওয়াশিংটনের কাছে কোনো আলোচনা চায়নি। তবে যুদ্ধবিরতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে কাতারের এক মধ্যস্থতাকারী নিজ উদ্যোগে ইরান সফর করেছেন। শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।

বাবার ‘নিষ্পাপ রক্তের’ প্রতিশোধ নেওয়া হবে :

গতকাল লিখিত বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ‘আমরা অপরাধী ও কলঙ্কিত খুনিদের কাছ থেকে শহীদ নেতা এবং এই যুদ্ধের সব শহীদের পবিত্র রক্তের বদলা নেওয়ার অঙ্গীকার করছি।’ তিনি বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তারা জবাবদিহিতা থেকে রেহাই পাবে না।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘অপরাধী ও কলঙ্কিত ঘাতক’ হিসেবে অভিহিত করেন মোজতবা।

বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, ‘ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত এই অপরাধীদের সবার নাম জানা এবং নথিভুক্ত আছে। বৃদ্ধ বয়সে বিছানায় শুয়ে শান্তিতে মৃত্যুর যে ইচ্ছা তারা বুকে পুষে রাখছে, তা তাদের সঙ্গেই কবরে যাবে। তাদের এটা জানা উচিত, এই বিষয়টি আমার বা অন্য কোনো কর্মকর্তার বেঁচে থাকা বা না থাকার ওপর নির্ভর করে না।’ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা বেঁচে থাকি বা না থাকি, খুব ‘শিগগিরই’ এই প্রতিজ্ঞা পূরণ করা হবে।’

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছয়দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোরে আয়াতুল্লাহ খামেনির জন্মস্থান মাশহাদ শহরে তার মরদেহ সমাহিত করা হয়।

শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দেওয়া লাখ লাখ শোকার্ত মানুষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মোজতবা খামেনি। তাদের এই অংশগ্রহণকে ‘শত্রুর মনোবল চূর্ণকারী ও ঐতিহাসিক উপস্থিতি’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

‘হত্যার চেষ্টা হলে’ ইরানকে ‘ধ্বংস’ করা হবে

গতকাল নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের দিকে ১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র তাক করে রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে, অর্থাৎ আমাকে হত্যার জন্য ইরান সরকার বিশ্ব জুড়ে যে হুমকি দিচ্ছে, যদি তার বাস্তবায়ন হয় বা তারা চেষ্টা করে, তবে মুহূর্তের মধ্যে ইরানে আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানবে।’

ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করা হয়েছে। আগামী এক বছর মেয়াদের মধ্যে (যা পরে বাড়ানো হতে পারে) ইরানের প্রতিটি অঞ্চল সম্পূর্ণ ধ্বংস ও গুঁড়িয়ে দিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন পুরোপুরি প্রস্তুত ও সক্ষম।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত