জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে অনেক কথা বলা হচ্ছে। আমরা জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না। জাতিকে কথা দিয়েছি লড়াই আমরা করে যাব। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে। আবু সাঈদের রক্তে ভেজা রংপুরে আরেকবার এ অঙ্গীকার ব্যস্ত ব্যক্ত করে গেলাম।
গতকাল শনিবার বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য সমাবেশের আয়োজন করে।
বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ বীরবিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু প্রমুখ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে বৈষম্য দূর করে নতুন বাংলাদেশ করার জন্য আমাদের সন্তানরা লড়াই করেছিল, সে জন্য সংস্কারের উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ভোট দেবেন দুটো। একটি আমার দলকে, আরেকটি গণভোটে হ্যাঁ। তিনি প্রথমটা রক্ষা করেছেন। দ্বিতীয়টা করেননি। তিস্তা নিয়ে সরকারি দল নির্বাচনের আগে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও’ আন্দোলন করেছে। তিস্তা নিয়ে এই বাজেটে ১০ টাকারও কোনো অ্যালোকেশন নেই। আমরা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই।
বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আকতার হোসেন, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি কেএম আনোয়ারুল হক কাজল, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রংপুর মহানগর সভাপতি ইব্রাহিম খলিলসহ ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।