পারিবারিক কবরস্থান পানির নিচে, শেষ ইচ্ছা পূরণ হলো না অটোরিকশাচালকের

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নে ভয়াবহ বন্যার কারণে পারিবারিক কবরস্থান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পূর্বপুরুষদের পাশে দাফন করা গেল না অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ ফোরকান (৬০)-কে। মৃত্যুর পর তার মরদেহ ভেলায় করে পানি পেরিয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে গোসল, জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে হয়েছে।

গত শুক্রবার বিকেলে ফোরকান মারা যান। কিন্তু তার মৃত্যুর পর পরিবারের সামনে সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়ায় দাফনের স্থান নির্ধারণ। কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও বন্যায় তার বাড়ি, উঠান, চলাচলের পথ এবং পারিবারিক কবরস্থান কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে বাড়িতে লাশের গোসল দেওয়ার সুযোগও ছিল না, আবার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে।

স্বজনরা জানান, প্রথমে একটি ভেলায় করে প্রায় ৩০০ মিটার পানির ওপর ভাসিয়ে মরদেহ শুকনা স্থানে নেওয়া হয়। পরে অটোরিকশাযোগে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের দস্তিদারহাট এলাকায় নিয়ে গিয়ে মরদেহের গোসল, কাফন ও জানাজার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। 

রাত ১০টার দিকে ফকির মুড়া ঈদগাহ মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ছেলে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। পরে পারিবারিক কবরস্থানের পরিবর্তে নিকটবর্তী একটি পাহাড়ের সরকারি খাসজমিতে তাকে দাফন করা হয়।

ফোরকানের ছেলে রাসেল উদ্দিন বলেন, আমাদের বাড়ির পাশেই পারিবারিক কবরস্থান। দাদা-দাদিসহ পরিবারের সবার কবর সেখানে। বাবা সবসময় বলতেন, মৃত্যুর পর যেন তাকেও তাদের পাশেই দাফন করা হয়। কিন্তু বন্যার কারণে সেই শেষ ইচ্ছাটুকুও পূরণ করতে পারিনি। কবরস্থানে তখন কোমরসমান পানি ছিল।

কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মহসিন বলেন, ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। ফোরকানের বাড়ি, চলাচলের রাস্তা ও পারিবারিক কবরস্থান প্লাবিত থাকায় মরদেহ ভেলায় করে সরিয়ে দূরে নিয়ে গিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করতে হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, চলমান বন্যায় শুধু ঘরবাড়ি, ফসল বা অবকাঠামোর ক্ষতিই হয়নি, মানুষের জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত—প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানানোর স্বাভাবিক সুযোগও কেড়ে নিয়েছে। মোহাম্মদ ফোরকানের দাফনের ঘটনাটি সাতকানিয়ার বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহতার এক মর্মস্পর্শী প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত