শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে শেষ চার

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫০ এএম

ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। ঝরে গেছে ৪৪টি দল, মাঠে টিকে আছে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার মাত্র চারটি দেশ। টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে শীর্ষ আটটি দলের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনই নাটকীয়।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক সম্প্রতি তাদের বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে প্রতিটি দলের মাঠের দাপট, ট্যাকটিক্যাল দক্ষতা এবং নকআউট পর্বের লড়াইয়ের গভীরতা পর্যালোচনায় টুর্নামেন্টে টিকে থাকা এবং বিদায় নেওয়া দলগুলোর পারফরম্যান্স ও শক্তির ভিত্তিতে একটি র‌্যাংকিং প্রকাশ করেছে। সেই মূল্যায়ন নিচে তুলে ধরা হলো : ১. ফ্রান্স: এবারের বিশ্বকাপের গোলমেশিন বলা হচ্ছে তাদের। ছয় ম্যাচে ১৬টি গোল করে এবং রক্ষণভাগে মাত্র দুটি গোল হজম করে ফ্রান্স প্রমাণ করেছে, তারা কেন শিরোপার এক নম্বর দাবিদার। কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং উসমান দেম্বেলের বিধ্বংসী জুটি প্রতিপক্ষের যেকোনো রক্ষণব্যূহ ভাঙতে সক্ষম।

২. স্পেন: রক্ষণভাগের ইস্পাতদৃঢ় দেয়াল নিয়েই স্পেন এবার টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল হয়ে উঠেছে। বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে গোলটি খাওয়ার আগে পর্যন্ত তারা ছিল গোলশূন্য। দলগত সমন্বয় এবং কৌশলগত নিখুঁত ফুটবল খেলে স্পেন এখন ফ্রান্সের বিরুদ্ধে মহালড়াইয়ের অপেক্ষায়।

৩. আর্জেন্টিনা: শিরোপা ধরে রাখার কঠিন মিশনে আর্জেন্টিনা প্রতিটা ধাপে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছে। অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ জেতা যেন তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। লিওনেল মেসির জাদুকরী স্পর্শের পাশাপাশি পুরো দলের সম্মিলিত লড়াই তাদের সেমিফাইনালিস্ট হিসেবে বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

৪. ইংল্যান্ড: টমাস টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড হয়তো সব ম্যাচ নান্দনিকভাবে জিতছে না, কিন্তু জয় ছিনিয়ে আনার অদম্য জেদ তাদের আছে। জুড বেলিংহামের ব্যক্তিগত ফর্ম এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জ্বলে ওঠার ক্ষমতা তাদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত শিরোপার।

কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া দলসমূহ : ৫. নরওয়ে : ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে এসেই শেষ আট পর্যন্ত পৌঁছানো নরওয়ের জন্য এবারের আসর ছিল রূপকথার মতো। হালান্ড-ওডেগার্ডের আত্মবিশ্বাসে ব্রাজিলকে হারিয়ে দেওয়া এই তরুণ প্রজন্ম ফুটবল বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।

৬. বেলজিয়াম : ইনজুরির থাবায় জর্জরিত দল নিয়েও বেলজিয়াম দেখিয়ে দিয়েছে লড়াই কাকে বলে। স্পেনের বিরুদ্ধে শেষ মিনিট পর্যন্ত যেভাবে তারা প্রতিরোধ গড়েছিল, তা ফুটবল ভক্তদের দীর্ঘকাল মনে থাকবে।

৭. মরক্কো : টানা দুই বিশ্বকাপে শেষ আটে খেলার কীর্তি গড়ে মরক্কো প্রমাণ করেছে, তারা কেবল এক আসরের চমক নয়। আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে ফুটবলের উচ্চশিখরে তাদের এই অবস্থান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

৮. সুইজারল্যান্ড : ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম শেষ আটে নাম লেখানো সুইজারল্যান্ডের জন্য এবারের বিশ্বকাপ ছিল বড় সাফল্যের। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করলেও অভিজ্ঞতার কাছে হার মেনে সম্মানের সঙ্গে বিদায় নেয়।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বিদায়ী দলগুলোর অবস্থান : টুর্নামেন্টে চরম হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে ১৬ নম্বর অবস্থানে থেকে বিদায় নিয়েছে ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ১৭ নম্বর অবস্থানে আছে পর্তুগাল, যারা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিদায়ী আসরে শেষ ষোলোতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। আর ১৯ নম্বর অবস্থানে থেকে বিদায় নিতে হয়েছে জার্মানিকে, যারা তাদের দীর্ঘ বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পেনাল্টি শুটআউটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে।

অন্যদিকে, সেনেগালের হৃদয়বিদারক বিদায় কিংবা ইরানের কোনো ম্যাচ না হেরেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপের কিছু করুণ অধ্যায়। জর্ডান ও হাইতির মতো দলগুলো গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিলেও, পুরো টুর্নামেন্টে জায়ান্টদের পতন ও নতুন শক্তির উত্থান ফুটবল মানচিত্রকে করেছে আরও বৈচিত্র্যময়। এখন মাঠের লড়াইয়ের উত্তাপ কেবল ফ্রান্স-স্পেন বা আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ফুটবল ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনার লড়াই। এই চার সেমিফাইনালিস্টের মধ্যে কে হাসবে শেষ হাসি? উত্তর মিলবে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সমাপ্তিতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত