বাংলাদেশে যথাযথ মর্যাদায় ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে 'আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৬' পালিত হচ্ছে আজ। প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ২৯ মে দিবসটি পালিত হলেও, এবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ ১০ জুন দেশে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করা হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ব শান্তিরক্ষায় অবদান রাখা এবং দায়িত্ব পালনকালে হতাহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে- বিশ্ব শান্তিরক্ষায় জীবন উৎসর্গকারী ও আহত শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। একই সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতারে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে এ কার্যক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৯২৮ জন নারী সদস্যসহ মোট ২১ হাজার ৮২৮ জন পুলিশ সদস্য বিশ্বের ২৫টি দেশে ২৭টি শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের আটজন নারী সদস্যসহ ৩৭ জন কর্মকর্তা ইউএনপোল ও ইউএন জবে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া, ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের নারী সদস্যরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছেন।
শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ পুলিশের ২৫ জন সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। প্রতিকূল পরিবেশেও বাংলাদেশ পুলিশের শান্তিরক্ষীরা দায়িত্ব পালন করে স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। বিশেষ করে হাইতির ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি আফ্রিকা ও ইউরোপের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তারা।
এদিকে, হাইতিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের ৫২৫ সদস্য শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত হবেন বলে জানা গেছে।
দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে বিশ্বের সংঘাত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। জাতিসংঘের ম্যান্ডেট অনুযায়ী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ পুলিশ অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান সরকারি চাকরিজীবীরা