উত্তরের চার জেলায় বিপদসীমার ওপরে নদীর পানি

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৭ এএম

দেশের চারটি জেলায় নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে নীলফামারীতে তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে, সুনামগঞ্জে ছাতকে সুরমা নদী ও মারকুলিতে কুশিয়ারা নদী, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকানার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছে।

আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা এবং নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার তিস্তা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে রংপুর জেলায় তিস্তা নদীর কাউনিয়া স্টেশনে সাময়িকভাবে বিপদসীমা অতিক্রম করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এ ছাড়া গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি : উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের সবকটি নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে নদ-নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছ। ডুবে যাচ্ছে সবজি ক্ষেত ও পাটক্ষেত, তীব্র আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। বিশেষ করে দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙন বাড়ায় উদ্বেগে রয়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। একই সঙ্গে তিস্তা ও দুধকুমার অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গতকাল কুড়িগ্রাম পাউবো সূত্রে জানা যায়, ধরলা নদীর পানি তালুকশিমুলবাড়ী পয়েন্টে, দুধকুমার নদীর পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ও তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানের ঢলে ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি আরও বাড়তে পারে। এতে তিস্তার অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য রাজিয়া বেগম বলেন, পানি বৃদ্ধির কারণে চর বিদ্যানন্দ, চর তৈয়বখাঁসহ আশপাশের এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় সরকারি সহায়তা খুবই অপ্রতুল। কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ভাঙন প্রতিরোধে অতিঝুঁকিপূর্ণ ছয় কিলোমিটামের মধ্যে চার কিলোমিটারে জরুরি কাজ চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট দুই কিলোমিটারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

গাইবান্ধায় নিম্নাঞ্চল জলমগ্ন : তিস্তাসহ গাইবান্ধার সব নদীর পানি বাড়ছে। যদিও জেলার সব নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সাত উপজেলার নিম্নাঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ভাঙন আতঙ্কে আছে নদীতীরবর্তী মানুষ। ইতিমধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি, মোল্লারচর, গিদারি; ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া, এরেন্ডাবাড়ি, রসুলপুর, উরিয়া; ফজলুপুর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া, লালচামার, তারাপুর, হরিপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। নদীতীরবর্তী এলাকায় অন্তত ২৬টি পয়েন্টে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এদিকে বৃষ্টিতে পলাশবাড়ীর মাঠেরবাজার, তুলশীঘাট, কুমারগাড়ী, রওশনবাগ, হরিণমারিসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি : দুই দিনের অতিভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলেও ১৮ ঘণ্টার ব্যবধানে তা আবার নিচে নেমে এসেছে। ফলে লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হয়েছে। পানি নামলেও মানুষের দুর্ভোগ এখনো কমেনি। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১০ মিটার যা বিপদসীমার দশমিক শূন্য ৫ সেন্টিমিটার নিচে। ডালিয়া পাউবো ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে গত সোমবার রাত ১০টার দিকে তিস্তার পানি বিপদসীমার দশমিক ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে ৫টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়। পানিবন্দি হয়ে পড়ে কয়েকশ পরিবার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত