শিশুর তোতলামো

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৫ এএম

অনেক শিশুই কোনো না কোনো সময়ে কোনো না কোনো শব্দে তোতলায়। আবার তা ঠিকও হয়ে যায়। কিন্তু কিছু শিশুর তোতলামো দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পরে।ছোট শিশুর তোতলামো দেখে প্রথম প্রথম বড়রা আনন্দ পেলেও বড় হওয়ার পর ক্ষতির কারণ হিসেবে দেখা যায়। শিশুটি একটু বড় হলেই সে উপহাসের ভয়ে কথা বলতে চায় না, সমবয়সীদের সঙ্গে মিশতে সমস্যা হয়, অনেকে কোথাও যেতেও চায় না, ক্লাসে প্রশ্ন করতে ও প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না। ফলে লেখাপড়াতেও ক্ষতি হয়। অনেক সময়ে বড়রা তাকে বকাঝকা বা তিরস্কার করে সংশোধনের জন্য বলেন। এতে তোতলামো আরও বেড়ে যায়। অথচ পরিবারের সদস্যরা ঠিকভাবে সাহায্য করতে পারলে অনেক শিশুর তোতলামো শুরুতেই ভালো হয়ে যেতে পারে। জেনে নিই তোতলামোর সমস্যায় কীভাবে শিশুকে সাহায্য করা যেতে পারে।

কারণ

শিশুকে সাহায্য করতে হলে তোতলামোর কারণ সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। সাধারণত শিশু তিন ধরনের কারণে তোতলায়। এগুলো হলো:

 শারীরিক ত্রুটি : জিহবা বা অন্যান্য বাগযন্ত্রের গঠনগত বা কার্যগত সমস্যা থাকলে শিশুর তোতলামোর সমস্যা হতে পারে।  অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ : অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ থাকলেও তোতলামোর সমস্যা হতে পারে। মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তার প্রতিক্রিয়ায় শরীরের মাংসপেশির ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। মুখের ও বাগযন্ত্রের মাংসপেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে শব্দ সঠিক সময়ে ও সঠিকভাবে উৎপন্ন করা যায় না। তখন শিশু তোতলায়। আবার তোতলামোর ফলে বাবা-মায়ের বকা খেতে হবে, সবাই হাসবে, শিক্ষক খারাপ মনে করবে এইরকম কিছু দুশ্চিন্তা শিশুর মধ্যে সৃষ্টি হয় যা তার পেশির ওপর আরও চাপ প্রয়োগ করে। তখন শিশু আরও তোতলায়।  শিক্ষালব্ধ: অনেক সময়ে কাউকে তোতলামো দেখে শিশু তোতলামোর অভ্যাস করে ফেলে। পরে চাইলেও আর ভালো করে কথা বলতে পারে না।

প্রতিকার

সমালোচনা নয় সহযোগিতা করুন : তোতলামোর জন্য বকাঝকা বা সমালোচনা করলে শিশুর মধ্যে বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি হয়। আর বাড়তি দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ তোতলামোকে বাড়িয়ে দেয়। তাই শিশুর তোতলামোর জন্য তাকে কোনো বকাঝকা বা অন্য কোনো শাস্তি দেওয়া যাবে না। সে যে তোতলায় তাও তাকে বারবার মনে করিয়ে দেওয়ার দরকার নেই। বরং তাকে সহযোগিতা করুন যাতে সে নিজেকে প্রকাশ করতে শেখে।

শান্ত থাকুন : নিজে শান্ত থাকুন, শিশুর তোতলামোতে আপনি নিজেই অস্থির হয়ে যাবেন না। তাতে শিশুর মধ্যে দুশ্চিন্তা সঞ্চারিত হবে। সঠিকভাবে ব্যবস্থা নিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশু তোতলামে থেকে বের হয়ে আসে।

রিল্যাক্স হতে শেখান : রিল্যাক্স হলে শিশুর তোতলামো কমে যায়। তাই তাকে রিল্যাক্স হতে শেখান। নরম পুতুলের মতো হাত-পা-মুখম-ল নরম করতে শেখান। শিশুর দুশ্চিন্তার কারণগুলো অনুসন্ধান করে তা নিরসনের চেষ্টা করুন।

‘কী’ বলছে তাতে মনোযোগ দিন : শিশু যখন কথা বলবে তখন শিশুটি কীভাবে কথা বলছে তা নয় বরং কথার বিষয়বস্তুর দিকে মনোযোগ দিন। তার তোতলামোকে অগ্রাহ্য করুন। এতে শিশুও কীভাবে কথা বলছে তাতে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেবে না। ফলে তার মাংসপেশি নরম হয়ে তোতলামোর মাত্রা কম থাকবে বা চলে যাবে।

শান্তভাবে কথা বলতে শেখান : কোনো প্রশ্ন করলে অনেক সময় শিশু অতি দ্রুত কথা বলার চেষ্টা করে। এর ফলে শিশুর কথা আটকে যায় ও পরে আটকে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা করে। ফলে তোতলামো আরও বেড়ে যায়। তাই উৎসাহিত করুন দ্রুত কথা না বলে ধীরে ধীরে, শান্তভাবে ও থেমে বলতে। ওপরের ব্যবস্থাগুলো নেওয়ার পরও শিশুর তোতলামো ভালো না হলে বিশেষজ্ঞর সাহায্য নিন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত