ফেনীর পরশুরামে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বন্যার আগাম প্রস্তুতিমূলক সচেতনতা সভা ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) উপজেলার পরশুরাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের ব্যবস্থাপনায় এই মানবিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনে সীমান্তবর্তী ও বন্যাপ্রবণ এলাকার প্রায় সাড়ে তিন সহস্রাধিক অসহায় মানুষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ লাভ করেন।
এদিন সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতনু বড়ুয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেডিকেল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। ক্যাম্পে তৈরি করা ৮টি বিশেষ বুথে মেডিসিন, গাইনি, চক্ষু ও চর্ম রোগসহ বিভিন্ন বিষয়ের ৮ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগীদের পরামর্শ দেন। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের বিনামূল্যে ব্লাড টেস্ট, চোখের পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সব ওষুধ সরবরাহ করা হয়।
মেডিকেল ক্যাম্পেইন উদ্বোধনের পর সকাল ১১টায় সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় একটি আগাম প্রস্তুতি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার।
বন্যাপ্রবণ এলাকার স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সভায় সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিতকরণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এরপর দুপুর ১২টায় এলাকার প্রায় ৩ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও খাতা-কলম বিতরণ করা হয়। একই সাথে এলাকার শীতার্ত ও দুস্থ মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেনী বিজিবির সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন, স্টার লাইন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল হোসেন ভূঁইয়া, বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী বন্যাপ্রবণ এলাকার বয়োবৃদ্ধ, শিশু ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যাসহ যেকোনো দুর্যোগে বিজিবি যেভাবে মানুষের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও এই মানবিক ও সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা মাওলানা নুরুল হক ও সালেহা খাতুন বিজিবির এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, অত্যন্ত সুন্দর ও আন্তরিক পরিবেশে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ এবং বিনামূল্যে ওষুধ পেয়েছেন। বিশেষ করে জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের আলাদা সম্মান ও অগ্রাধিকার দেওয়ায় তারা বিজিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এমন কার্যক্রম চালু রাখার অনুরোধ জানান।