কোরআন হাদিসের বর্ণনায় সাপ

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০৬ এএম

কিছু প্রাণী মানুষের জন্য উপকারী। কিছু প্রাণী ক্ষতিকর। সাপ এমন একটি প্রাণী, যার ব্যাপারে ইসলাম ভারসাম্যপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে সাপের উল্লেখ এসেছে। হাদিসে এসেছে এর বিধানও। কোথায় সাপ হত্যা করা যাবে, কোথায় সতর্ক থাকতে হবে এবং কীভাবে এর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইতে হবে, সেই বিষয়েও রয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা।

পবিত্র কোরআনে মুসা (আ.)-এর অন্যতম মুজিজা হিসেবে সাপের উল্লেখ এসেছে। মহান আল্লাহ তার লাঠিকে অলৌকিকভাবে বিশাল সাপে পরিণত করে ফেরাউনের জাদুকরদের ভেলকি নস্যাৎ করে দেন। এ ঘটনা সুরা তাহা ও আরাফে বর্ণিত হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষের জন্য ক্ষতিকর ও বিষধর সাপ হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সাপের ভয়ে তা হত্যা করা থেকে বিরত থাকে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। (সুনানে আবু দাউদ ৫২৪৮)

এমনকি নামাজরত অবস্থায়ও কালো সাপ ও বিচ্ছু সামনে এলে তা হত্যা করার অনুমতি দিয়েছেন। (সুনানে আবু দাউদ ৯২১) বিশেষ করে পিঠে দুটি সাদা দাগযুক্ত সাপ এবং ছোট লেজবিশিষ্ট বিষধর সাপ হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (সহিহ বুখারি ৩২৯৭)

তবে ঘরের ভেতরে দেখা দেওয়া সাপের ক্ষেত্রে ইসলাম ভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ঘরের সাপকে আগে তিনবার চলে যাওয়ার জন্য সতর্ক করতে হবে। এরপরও যদি সেটি থেকে যায়, তখন হত্যা করা যাবে। কারণ মদিনায় কিছু জিন সাপের রূপ ধারণ করে ঘরে অবস্থান করত। তবে মাঠ, বন বা ঘরের বাইরের সাপের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য নয়। (সহিহ মুসলিম ২২৩৬)

পরকালে জাকাত আদায় না করার ভয়াবহ শাস্তির কথাও হাদিসে এসেছে। কেয়ামতের দিন সম্পদ একটি বিষধর সাপে পরিণত হয়ে মালিকের গলায় পেঁচিয়ে তাকে দংশন করতে থাকবে। (সহিহ বুখারি ১৪০৩)

সাপসহ সব ধরনের অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য এই দোয়া পড়ার নির্দেশনা এসেছে, ‘আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।’ অর্থাৎ আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে তার সব সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (সহিহ মুসলিম ২৭০৮)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত