অর্থ ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম

দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়ে শুল্ককে নিজের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শত্রু-মিত্র, নির্বিশেষে প্রায় সব দেশের ওপর ট্রাম্প আরোপিত এই পাল্টা শুল্ক নতুন বাণিজ্যযুদ্ধের দামামা বাজিয়েছিল। এ নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট অতিরিক্ত শুল্কের বড় অংশ বাতিল করেন। ফলে শুল্ক প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হয় ট্রাম্প প্রশাসন। ইতিমধ্যে পাল্টা শুল্ক বাবদ আদায়কৃত অর্থের মধ্যে ৮১ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় গত সোমবার প্রকাশিত সরকারি বাজেট পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে। 

গত বছর পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার একটি প্রধান অংশ ছিল আমদানি করা পণ্যের ওপর ‘কর’। ৬-৩ ভোটে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের ওই সিদ্ধান্তে বলা হয়, জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য প্রণীত ১৯৭৭ সালের আইন ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর বিস্তৃত ‘পারস্পরিক শুল্ক’ আরোপ করে ট্রাম্প তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুল্ক ফেরতের এই বিপুল উল্লম্ফন পুরোপুরি সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের কারণে হয়েছে; বেশিরভাগ অর্থই ফেরত দেওয়া হয়েছে গত মে ও জুন মাসে।

ট্রাম্প এই শুল্ক আরোপকে অর্থনীতির জন্য একটি সর্বাঙ্গীণ সমাধান হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, যার মাধ্যমে কারখানাগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসবে, আরও ভালো বাণিজ্য চুক্তি হবে এবং ফেডারেল বাজেটের ঘাটতি পূরণ হবে। এ থেকে আসা আয়ের কারণে গত বছর বাজেট ঘাটতি কিছুটা কমলেও, এখন তা বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ঘাটতির পরিমাণ ২ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩৬৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র কেবল তার ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে দেশটির সামরিক ব্যয় বেড়েছে ৫ শতাংশ।

এদিকে আদালতের রায়ের কারণে হাতছাড়া হওয়া রাজস্ব পুনরুদ্ধার করতে এবং নিজের সুরক্ষাবাদী নীতি বজায় রাখতে নতুন কৌশল হাতে নিচ্ছে হোয়াইট হাউজ। ট্রাম্পের সাময়িক ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ আগামী ২৪ জুলাই শেষ থেকে যাচ্ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে নতুন করে শুল্ক আরোপের খসড়া প্রস্তাব তৈরি করছে। বাধ্যতামূলক শ্রম আইনের দুর্বল প্রয়োগ এবং মাত্রাতিরিক্ত শিল্প সক্ষমতার অভিযোগ তুলে এবার ব্রিটেন, জাপান, ভারত, তাইওয়ান ও চীনের মতো অংশীদারদের ওপর এই নতুন শুল্ক চাপানো হতে পারে, যার মাধ্যমে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের আগের আইনি সীমাবদ্ধতা এড়াতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ব্রাজিলের ওপর ২৫ শতাংশ নতুন শুল্ক এবং যেসব ইউরোপীয় দেশ মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টদের ওপর বিশেষ কর বা ‘ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স’ আরোপের চিন্তা করছে, তাদের পণ্যে শতভাগ (১০০ শতাংশ) শুল্ক বসানোর সরাসরি হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, কোনো দেশ যদি গুগল, অ্যাপল বা অ্যামাজনের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর ডিজিটাল কর আরোপ করে, তবে অবিলম্বে তাদের যেকোনো পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে শতভাগ শুল্কের মুখোমুখি হবে। এই শুল্ক আগে থেকে করা বা সই হওয়া সমস্ত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিকেও বাতিল করে দেবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত