সংকটে বাঁশখালীর রুদ্রপাড়া

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৪ এএম

বাঁশখালীর সাধনপুরের রুদ্রপাড়া। বসবাস করে ৫০টির মতো রুদ্র পরিবার। যাদের কাজ মাটির হাঁড়ি-পাতিলসহ নানা গৃহস্থালি সামগ্রী তৈরি। এটা করেই জীবন নির্বাহ করেন তারা। কিন্তু গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দিশেহারা পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। চারদিকে বন্যার অথৈ পানি, জনজীবন বিপর্যস্ত।

এমন ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে গত কয়েকদিন ধরে গৃহবন্দি দিন কাটাচ্ছেন কামার-কুমার সম্প্রদায়ের মানুষ। তাদের কাজের সম্বল নির্মাণসামগ্রীর যে মাটিগুলো কিনে মজুদ করেছিলেন তা বৃষ্টির পানিতে গলে বিলীন হয়ে গেছে। তাদের জীবন নির্বাহ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। তবুও তারা হাল ছাড়েননি, বাঁচার তাগিদে শেষ সম্বল ভিটেমাটি আঁকড়ে পড়ে আছেন।

রুদ্রপাড়ায় সরেজমিন দেখা যায়, প্রতিটি বাড়ির কোনাসহ সর্বত্র মাটির তৈরি জিনিসপত্রে ঠাসা। মাটির তৈরির জিনিসগুলো রোদে শুকাতে না পারার কারণে নষ্ট হচ্ছে। কাজ নেই, বেচা-বিক্রিও নেই। ফলে আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমন অনিশ্চতার সময়েও তাদের সহযোগিতা কিংবা খোঁজখবর নিতে কেউ এগিয়ে আসেনি।

রুদ্রপাড়ার বেশকিছু বসতঘর মাটির দেওয়ালের তৈরি। টানা বৃষ্টিবাদলে চরম সংকটে পড়তে হয় এসব ঘরের বাসিন্দাদের। এ রকমই একটি ঘরের বাসিন্দা মৃৎশিল্পী উষা রুদ্র। তিনি জানান, ঘরের মাটির দেওয়ালগুলো খসে পড়ার উপক্রম হলেও পলিথিন দিয়ে নানাভাবে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন বড় সমস্যা হচ্ছে কাঁচা মাটির সামগ্রী যেগুলো তৈরি করা হয়েছে, সেগুলো শুকাতে এবং বিক্রি করতে না পারলে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হবে। একই কথা বললেন রিখা রুদ্র। তিনি জানান, রাত-দিন কষ্ট করে হাতে তৈরি জিনিসগুলো এখন শুকানো যাচ্ছে না, বিক্রি করতে পারছেন না। সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

চুমকি রুদ্রের পরিবারে রয়েছে প্রতিবন্ধী ভাই তাপন রুদ্র। এমনিতেই টানাপড়েনের সংসার। হতাশার সুরে বলেন, বৃষ্টিবাদলে জিনিসপত্র শুকাতে ও বিক্রি করতে না পারায় কষ্টে দিন যাচ্ছে।

বাঁশখালীর কামার-কুমার সম্প্রদায় এমনিতেই পূর্বপুরুষের পেশা টিকিয়ে রাখতে গিয়ে দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করেই জীবনযাপন করছেন। এর মধ্যে টানা বর্ষণে তারা নতুন সংকটে পড়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত