নিখোঁজ ডুবুরির লাশ মিলল ২৫ ঘণ্টা পর

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৭ এএম

পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানাধীন নলগোলা এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার করতে নেমে নিখোঁজের ২৫ ঘণ্টা পর মো. মিলন নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলের প্রায় ৪০০ মিটার দূরে মরদেহটি খুঁজে পান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে ড্রেনে নেমে নিখোঁজ হয়েছিলেন তিনি।

জানা গেছে, নিহত মো. মিলনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের শ্রীপুরে। তিনি ‘ডুবুরি মিলন’ নামে পরিচিত ছিলেন। একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের হয়ে ড্রেন পরিষ্কার করার কাজে এলেও প্রতিষ্ঠানটির নাম জানাতে রাজি হননি সংশ্লিষ্টরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নলগোলা এলাকার ড্রেন পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। দুপুরের দিকে অক্সিজেন সঙ্গে দিয়ে কোমরে রশি বেঁধে ম্যানহোলে নামানো হয় মিলনকে। এর ঘণ্টাখানেক পর তার কোমরের রশি ছিঁড়ে গেলে সহকর্মীরা খোঁজাখুঁজি করেও হদিস না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি এসে ম্যানহোলে নেমে মিলনকে খুঁজতে থাকেন। তবে রাত হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। এরপর গতকাল সকালে আবার উদ্ধার কার্যক্রম শুরুর পর ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০০ মিটার পর্যন্ত রাস্তা খুঁড়ে মিলনের মরদেহ পাওয়া যায়। লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মিটফোর্ড) মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ড্রেনে বহুদিন ধরে ময়লা জমলেও পরিষ্কার করা হয়নি। মূলত গ্যাস ও প্রতিকূল অবস্থার কারণেই হয়তো মিলন নিখোঁজ হন।

এদিকে স্বামীর নিখোঁজের খবরে বৃহস্পতিবার বিকেলেই ঘটনাস্থলে হাজির হন স্ত্রী আমেনা বেগম। উদ্ধার কর্মীদের সঙ্গে তিনিও এদিকে-ওদিক উঁকি দিয়ে স্বামীকে খুঁজতে থাকেন। রাস্তা খুঁড়ে খুঁড়ে যখন গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে মিলনের মরদেহ বের করে আনেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা, তখন বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন আমেনা বেগম ও তার স্বজনরা। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে মিলনের মৃত্যু হয়েছে। তারা মামলা করার কথাও জানান।

কোতোয়ালি থানার এসআই এনামুল হক জানান, নিহতের স্ত্রী ও স্বজনরা থানায় এসেছিলেন। তারা মামলা করলে অবশ্যই মামলা নেওয়া হবে। আর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ঘটনাস্থল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের ডিএসসিসির পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক রাশেদুর রহমান রাসেল নিজের ধারণার কথা জানিয়ে বলেন, সম্ভবত মিলনের কোমরে রশি ভালোভাবে বাঁধা হয়নি। ফলে রশি ছিঁড়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সিটি করপোরেশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী জানান, ড্রেনের ময়লা পরিষ্কারের কাজ সিটি করপোরেশন ঠিকাদারকে দিয়ে করায়। নলগোলা এলাকার ড্রেন পরিষ্কারের কাজ পেয়েছে বাবু ওরফে জাকির নামে এক ব্যক্তির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তিনি বিএনপি নেতা। বাবু আবার মোনা নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে বৃহস্পতিবার ড্রেন পরিষ্কারের কাজটি পরিচালনা করছিলেন। মূলত ওই প্রতিষ্ঠান মিলনকে ড্রেন পরিষ্কার করতে নিয়ে আসে। এটা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাবু অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কর অঞ্চল-৩ এলাকায় কাজ করি। আমার প্রতিষ্ঠান নলগোলা এলাকার ড্রেন পরিষ্কারের কাজ পায়নি। এটা অন্য প্রতিষ্ঠান পেয়েছে।’ তবে তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম জানতে চাইলে তিনি সেটি বলতে রাজি হননি।

এদিকে বাবু অস্বীকার করলেও ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের ড্রেন পরিষ্কারের কাজ বাবুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই পেয়েছে। তবে গতকাল অফিস বন্ধ থাকায় তিনি বাবুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম জানাতে পারেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত