২০২৪ সালের ১৯ জুলাই—বাংলাদেশের ইতিহাসের এক রক্তাক্ত দিন। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও প্রাণহানির সেই ঘটনায় একদিনেই প্রাণ হারান ভোলা জেলার ১৩ জন। সংশ্লিষ্টদের মতে, একদিনে একটি জেলা থেকে এত মানুষের প্রাণহানির নজির আর নেই। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের পরিবারের কান্না থামেনি। ১৯ জুলাই এলেই সেই দুঃসহ স্মৃতি আবারও ফিরে আসে।
ভালো জীবনের স্বপ্ন নিয়ে, সংসারের অভাব ঘোচাতে কিংবা পড়াশোনার খরচ জোগাতে রাজধানীতে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু কেউ আর জীবিত ফিরে আসেননি। কফিনবন্দি মরদেহ হয়ে ফিরেছেন নিজ গ্রামে। কেউ ছিলেন কলেজ বা মাদরাসার শিক্ষার্থী, কেউ দিনমজুর, রিকশাচালক, রাজমিস্ত্রী, হোটেল কর্মচারী, ট্রাকচালক বা বেকারি শ্রমিক। তাদের মৃত্যু শুধু একটি প্রাণের অবসান নয়, ভেঙে দিয়েছে ১৩টি পরিবারের ভবিষ্যতের স্বপ্নও।
সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংরক্ষিত তালিকা অনুযায়ী, ওই দিনের শহীদরা হলেন—ভোলা সদরের বাবুল (৪০), বোরহানউদ্দিনের নাহিদ (২১), ইয়াছিন (২৩) ও পদদলিত হয়ে নিহত জামাল উদ্দিন (৩৫); লালমোহনের আরিফ (১৭), মোছলেহ উদ্দিন (৩৫), আক্তার হোসেন (৩৫), মুফতি শিহাবউদ্দিন (৩০), শাকিল (২০) ও সাইদুল (১৪); চরফ্যাশনের সোহাগ (১৭), বাহাদুর হোসেন মনির (১৮) এবং দুলারহাটের মো. হোসেন (২৫)।
দুই বছর পরও শহীদ পরিবারগুলোর জীবনে ১৯ জুলাই মানেই শোকের দিন। অনেক পরিবার এখনও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। সরকারিভাবে মাসিক ভাতা পেলেও স্বজনদের দাবি, হারানো সন্তানের বা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যের শূন্যতা কোনো ভাতায় পূরণ হওয়ার নয়।
লালমোহনের শহীদ আরিফের বাবা বলেন, একমাত্র সন্তানকে হারানোর কষ্ট আজও বুকের ভেতর রক্তক্ষরণ ঘটায়। বয়সের ভারে কাজ করার শক্তিও কমে গেছে। ছেলেকে নিয়ে যে স্বপ্ন ছিল, তা ১৯ জুলাইয়ের গুলিতে শেষ হয়ে গেছে। তার একটাই দাবি—সন্তান হত্যার বিচার।
বোরহানউদ্দিনের শহীদ নাহিদের বাবাও বলেন, সময় যত যাচ্ছে, ছেলের অভাব তত বেশি অনুভূত হচ্ছে মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করেছেন। প্রতিটি মুহূর্তেই ছেলের স্মৃতি তাড়া করে বেড়ায়।
শুধু আরিফ বা নাহিদের পরিবার নয়, অন্য শহীদদের বাড়িতেও একই চিত্র। কেউ আগেই দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করেছেন, আবার কেউ আজ শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে মিলাদ মাহফিল করছেন। প্রতিটি বাড়িতে আজ শোক, স্মৃতি আর চোখের জল।
শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিরা বলছেন, যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন তাদের স্বজনরা, সেই স্বপ্ন এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিচার দ্রুত সম্পন্ন এবং শহীদ পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার রামপুরা, বাড্ডা, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নেয়। সেই রক্তাক্ত দিনে ভোলার ১৩ জন প্রাণ হারান। দুই বছর পরও তাদের স্বজনদের অপেক্ষা—বিচারের, আর এমন একটি বাংলাদেশের, যেখানে আর কোনো পরিবারকে এভাবে প্রিয়জন হারানোর বেদনা বয়ে বেড়াতে না হয়।
সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংরক্ষিত তালিকা অনুযায়ী, ওই দিনের শহীদরা হলেন—ভোলা সদরের বাবুল (৪০), বোরহানউদ্দিনের নাহিদ (২১), ইয়াছিন (২৩) ও পদদলিত হয়ে নিহত জামাল উদ্দিন (৩৫); লালমোহনের আরিফ (১৭), মোছলেহ উদ্দিন (৩৫), আক্তার হোসেন (৩৫), মুফতি শিহাবউদ্দিন (৩০), শাকিল (২০) ও সাইদুল (১৪); চরফ্যাশনের সোহাগ (১৭), বাহাদুর হোসেন মনির (১৮) এবং দুলারহাটের মো. হোসেন (২৫)।
দুই বছর পরও শহীদ পরিবারগুলোর জীবনে ১৯ জুলাই মানেই শোকের দিন। অনেক পরিবার এখনও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। সরকারিভাবে মাসিক ভাতা পেলেও স্বজনদের দাবি, হারানো সন্তানের বা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যের শূন্যতা কোনো ভাতায় পূরণ হওয়ার নয়।
লালমোহনের শহীদ আরিফের বাবা বলেন, একমাত্র সন্তানকে হারানোর কষ্ট আজও বুকের ভেতর রক্তক্ষরণ ঘটায়। বয়সের ভারে কাজ করার শক্তিও কমে গেছে। ছেলেকে নিয়ে যে স্বপ্ন ছিল, তা ১৯ জুলাইয়ের গুলিতে শেষ হয়ে গেছে। তার একটাই দাবি—সন্তান হত্যার বিচার।
বোরহানউদ্দিনের শহীদ নাহিদের বাবাও বলেন, সময় যত যাচ্ছে, ছেলের অভাব তত বেশি অনুভূত হচ্ছে মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করেছেন। প্রতিটি মুহূর্তেই ছেলের স্মৃতি তাড়া করে বেড়ায়।
শুধু আরিফ বা নাহিদের পরিবার নয়, অন্য শহীদদের বাড়িতেও একই চিত্র। কেউ আগেই দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করেছেন, আবার কেউ আজ শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে মিলাদ মাহফিল করছেন। প্রতিটি বাড়িতে আজ শোক, স্মৃতি আর চোখের জল।
শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিরা বলছেন, যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন তাদের স্বজনরা, সেই স্বপ্ন এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিচার দ্রুত সম্পন্ন এবং শহীদ পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার রামপুরা, বাড্ডা, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নেয়। সেই রক্তাক্ত দিনে ভোলার ১৩ জন প্রাণ হারান। দুই বছর পরও তাদের স্বজনদের অপেক্ষা—বিচারের, আর এমন একটি বাংলাদেশের, যেখানে আর কোনো পরিবারকে এভাবে প্রিয়জন হারানোর বেদনা বয়ে বেড়াতে না হয়।