ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করাসহ তিনটি শর্ত পূরণ করা হলে অনশন ভাঙবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ২০ দিনের বেশি সময় ধরে অনশনে থাকা ওয়াংচুক দিল্লির সাফদারজং হাসপাতাল থেকে হাতে লেখা এক চিঠিতে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, তাকে ‘অবৈধভাবে আটক’ রাখা হয়েছে এবং তার চলাফেরা, মতপ্রকাশ ও যোগাযোগের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছে।
ওয়াংচুকের প্রথম শর্ত, সাম্প্রতিক নিট (এনইইটি) প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন ব্যর্থতার দায় সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত হিসেবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের সংসদে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি উত্থাপনের নিশ্চয়তা দিতে হবে। তৃতীয় শর্তে তিনি জানান, শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি যদি নির্ধারিত সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নিতে না পারেন, তবে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের হাসপাতালে এসে আগের দুটি শর্ত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা সংস্কার ও লাদাখ সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় ওয়াংচুক গত ২৮ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিয়ে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। ওই দিন থেকেই তিনি আমরণ অনশন শুরু করেন।
অনশনের ২১তম দিনে, গত ১৮ জুলাই, দিল্লি পুলিশ তাকে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে সাফদারজং হাসপাতালে ভর্তি করে। এর আগের দিন চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থাকে সংকটাপন্ন উল্লেখ করে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানান। একই সময়ে দিল্লি হাইকোর্ট তার জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারকে নির্দেশ দেয়।
এদিকে, ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেন। তবে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন কোনো আদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ওয়াংচুক হাসপাতালে ভর্তি হতে অস্বীকৃতি জানানো এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার তাকে সাফদারজং হাসপাতালে স্থানান্তর করতে পারে।
বিচারপতি মিনি পুষ্কর্ণা বলেন, চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তার সম্মতিতেই ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে। তাই তার ওপর জোরপ্রয়োগ করা হয়েছে বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হয়েছে এমন অভিযোগের ভিত্তি নেই।
ওয়াংচুকের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিবেক টাংখা জানিয়েছেন, হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে দ্বৈত বেঞ্চে আপিল করে জরুরি শুনানির আবেদন করা হতে পারে।