একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ, পরিবারের মুখে একটুখানি হাসি আর একমাত্র সন্তানকে ঘিরে বুক বাঁধা অজস্র স্বপ্ন এসবের বন্দোবস্ত করতেই ভিটেমাটি আর সম্বল বিক্রি করে দূর পরবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন তরুণ শাহরিয়ার সুমন। কিন্তু একটি ভুল সিদ্ধান্ত আর আদমবেপারীদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সেই সুদূরের স্বপ্ন আজ ফিকে হয়ে মিশে গেছে ইউক্রেনের অন্ধ প্রকোষ্ঠে।
দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে সুমনের কোনো খোঁজ না পেয়ে যখন পুরো পরিবার শোকে পাথর, ঠিক তখনই খবর আসে—ইতালির ইউরোপীয় স্বপ্নের সমীকরণ মিলাতে গিয়ে সুমন আজ বন্দি ইউক্রেনের অন্ধকার এক কারা'গারে।
ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা উজান ভাটিপাড়া (মাইজপাড়া) গ্রামের সন্তান শাহরিয়ার সুমন। বাবা ওয়াজেদ আলী আর মা জোসনা বেগমের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে প্রায় এক বছর আগে ৯ লক্ষ টাকার চড়া মাশুল গুনে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় রাশিয়ায় যান তিনি।
সেখানে 'সেনোপ্লেক্স' নামের একটি প্রতিষ্ঠানে সততার সাথে সাত-আট মাস কাজও করেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম চাকা আর দালালদের লোভনীয় ফাঁদে পড়ে জীবনটাই বদলে যায় সুমনের। রাশিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশে রওনা হয়ে পথ হারিয়ে তিনি ও তার সহযাত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের তরুণ হাসান আটকা পড়েন ইউক্রেন সীমান্তে। সেখান থেকেই সোজা ইউক্রেনের জেলখানায়।
রাশিয়ায় থাকা অবস্থায় পরিবারের সাথে সুমনের নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও গত তিন-চার মাস ধরে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন সেই সুতো। কোনো ফোন নেই, নেই কোনো খবর। গত কয়েকদিন আগে যখন অন্য মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে সুমন ইউক্রেনের জেলে বন্দি, তখন থেকেই ভা'ঙা ঘরের দাওয়ায় যেন বিষাদের ঘন ছায়া।
স্বামীর এমন খবরে বেদনায় ও দুশ্চিন্তায় দিশেহারা সুমনের স্ত্রী খালেদা আক্তার। কোলে ছোট এক সন্তান। অবুঝ শিশুটি এখনো বোঝে না বাবা কোন দূর দেশে আটকা পড়ে আছে, সে শুধু মায়ের অশ্রুসজল চোখের দিকে চেয়ে থাকে। পররাষ্ট্র মন্ত্রাণালয় এবং বাংলাদেশ সরকারের নিকট এক সন্তানকে কোলে নিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আকুল আকুতি জানান খালেদা আক্তার। আমার অবুঝ বাচ্চাটার মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দিন।