জলকদর খালের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কাথরিয়া ইউনিয়নের বাইমাঝিপাড়া। যেখানে একসময় মাটির সারি সারি বাড়ি ছিল। সম্প্রতি বন্যায় ভেঙে তা ধবংস্তূপে পরিণত হয়েছে। অনেকে ঘরবাড়ি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি ওই এলাকায় গেলে এ দৃশ্য চোখে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহারাদের এমন একজন মিনু আক্তার। দিনমজুর স্বামী মাহমুদুল হকসহ তার সাত সদস্যের পরিবার। টেনেটুনে কোনোভাবে সংসার চললেও সম্প্রতি বন্যা তার সব শেষ করে দিয়েছে।
মিনু বেগম বলেন, আমাদের ৫ ছেলেমেয়ের মধ্যে বড় মেয়েটি কাথরিয়া স্কুলে নবম শ্রেণিতে আর ছোট ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে। বন্যায় মাটির ঘরটি ভেঙে পড়লে কোনো জিনিস বের করার সুযোগ পাইনি। ছেলেমেয়ের বইপত্রগুলোও বের করা সম্ভব হয়নি। ফলে কয়দিন ধরে তারা স্কুলে যেতে পারছে না। নতুনভাবে কিনব সেই সামর্থ্যও নেই। এখন তাদের লেখাপড়া নিয়ে শঙ্কিত।
মিনু আক্তার আরও জানান, আমার ও ভাশুরের দুই পরিবারের ১২ জন এই বাড়িতে বসবাস করতাম। বন্যার পানিতে সবকিছু হারিয়ে বর্তমানে দেবরের বাড়িতে কোনোভাবে দিনযাপন করছি। টাকা-পয়সা না থাকায় বাড়িটি যেভাবে ভেঙে পড়েছে, সেভাবে পড়ে আছে। বাড়িঘর ভেঙে পড়ার পর শুকনো খাবারসামগ্রী পেলেও বড় ধরনের কোনো সহযোগিতা পাইনি।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা এসএম মিজানুর রহমান বলেন, এবারের বন্যায় আমাদের পিতৃপুরুষের স্মৃতিময় বাড়িটি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। আমার বাবারা ৬ জন, তাদের ছেলেমেয়েরা সবাই মিলে আমরা এখানে ৩৩ সদস্য বসবাস করতাম। কিন্তু আজ আমরা সবাই গৃহহারা হয়ে অন্যের বাড়িতে থাকছি। আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। সমাজে একটা পরিচয় থাকায় কারও কাছে নিজেদের দুঃখের কথাও বলতে পারছি না। আমার চাচা মরহুম অধ্যাপক মোহাম্মদ আইয়ুব এ বাড়িতে বসবাস করতেন। কাথরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. হারুনুর রশিদ জানান, বন্যায় ইউনিয়নের প্রায় তিন সহস্রাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।