অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জেতার সামর্থ্য আছে আমাদের

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৪২ এএম

ব্যাটারদের ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ে সফরে একমাত্র টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারে বাংলাদেশ দল। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলকে। খারাপ করলে তোপের মুখে পড়তে হবে জেনেই এ দায়িত্ব নিয়েছেন সাবেক এ অধিনায়ক। তার অধীনে ব্যাটারদের অবস্থান, আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলেছেন তরিকুল ইসলাম সজল-এর সঙ্গে

প্রশ্ন : জিম্বাবুয়ে সফরে ব্যাটাররা সুবিধা করতে পারেননি। ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায় আপনার ওপরেই পড়ে। বেশ কঠিন সময় পার করছেন কি?

মোহাম্মদ আশরাফুল : দল খারাপ করলে সমালোচনা হবেই। কিন্তু আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত পাঁচটি টেস্ট ম্যাচে কাজ করেছি। এ সময়ে মুমিনুল হক প্রায় ৫০০ রান করেছে, মুশফিকুর রহিম প্রায় ৪৮০ রান করেছে, লিটন দাস চার ম্যাচে ৪২৭ রান করেছে, নাজমুল হোসেন শান্ত দুটি সেঞ্চুরি করেছে এবং মাহমুদুল হাসান জয়ও ধারাবাহিকভাবে রান করছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে ব্যাটিং ভালো হয়নি। তবে এর আগে চারটি টেস্টে আমরা জিতেছি এবং ব্যাটাররা ভালো পারফর্ম করেছে। ওয়ানডেতেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তানজিদ হাসান তামিম, তাওহীদ হৃদয়, শান্ত, লিটন নিয়মিত রান করছে। টি-টোয়েন্টিতেও দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনটি সিরিজের মধ্যে দুটি জিতেছি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮৩ রান ১৮ ওভারে তাড়া করে জেতার মতো পারফরম্যান্সও ছিল। সব মিলিয়ে একেবারেই তো আপনাকে মূল্যায়ন করতে হবে।

প্রশ্ন : এক নাগারে সব ব্যাটারের পরিসংখ্যান তুলে ধরছেন। সমালোচনার জবাব দিতে এটা আপনার কৌশল?

আশরাফুল : আমি কোচিংয়ে যোগ দেওয়ার পর প্রতিটি সিরিজ ও ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়মিত নোট করি। দায়িত্ব নেওয়ার আগে তারা কোথায় ছিল এবং এখন কোথায় আছে, সেটি আমি সব সময় পর্যবেক্ষণ করি। সবার সঙ্গে আলাদা করে কথা বলি। তবে এই উন্নতির পুরো কৃতিত্ব খেলোয়াড়দেরই। আমি শুধু চেষ্টা করি, তারা যেন আরও ভালো করতে পারে।

প্রশ্ন : এক যুগের বেশি সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। এখন জাতীয় দলের কোচ। কোন দায়িত্বটি বেশি চাপের মনে হয়?

আশরাফুল : আমার মতে, কোচের চেয়ে খেলোয়াড়ের চাপ অনেক বেশি। কোচ নির্দেশনা দেয়, কিন্তু মাঠে কাজটা করতে হয় খেলোয়াড়দেরই। ফল ভালো হলে কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের, খারাপ হলে সমালোচনা কোচকে শুনতে হয়। তবে একজন খেলোয়াড় হিসেবে যে চাপ ও কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সেটাই বেশি কঠিন।

প্রশ্ন : আপনার সামনে তো আরও বিকল্প ছিল। কোচিংয়ে কেন এলেন?

আশরাফুল : আমার শৈশবের কোচ ওয়াহেদুল গণি স্যারকে দেখে কোচিং আসার অনুপ্রেরণা পেয়েছি। তার অধীনে আমরা চারজন টেস্ট ক্রিকেটার হয়েছি, আরও কয়েকজন জাতীয় দলে খেলেছে। বুলবুল ভাইয়েরও (আমিনুল ইসলাম) বড় অবদান আছে। তার উৎসাহেই আমি লেভেল থ্রি কোচিং সম্পন্ন করেছি। আর যেহেতু আমি ১৩ বছর বাংলাদেশের হয়ে খেলছি, ২৫০-এর বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে আমার। তো, এ সময়ে অনেক কোচকে পেয়েছি। আমি লক্ষ্য করতাম তারা কি করত। তখন আমি এসব জিনিস নিয়ে চিন্তা করতাম। ওভাবেই কাজ করার চেষ্টা করি। সেখান থেকেই শিখেছি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলোয়াড়রা ঠিক কী চায় কোচের কাছ থেকে।

প্রশ্ন : সামনে তো আরও বড় চ্যালেঞ্জ। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। বর্তমান দলের কোনো ক্রিকেটারের সেখানে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নেই। কেমন করবে বলে প্রত্যাশা করছেন?

আশরাফুল : প্রায় ২৩ বছর পর বাংলাদেশ টেস্ট খেলতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায়। অনেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের জন্যও এটি নতুন অভিজ্ঞতা। যেমন মুশফিকুর রহিম ১০০টির বেশি টেস্ট খেলেও অস্ট্রেলিয়ায় খেলেননি। অস্ট্রেলিয়ায় সব দলের জন্যই খেলা কঠিন। তবে আমরা যদি ভালো করতে পারি, সেটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বড় অর্জন হবে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের মূল পেসাররা সুস্থ থাকলে অন্তত একটি টেস্ট জেতার সামর্থ্য আমাদের আছে। টেস্ট ক্রিকেটে ২০ উইকেট নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই সামর্থ্য এখন বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের রয়েছে।

প্রশ্ন : সম্প্রতি অমিত হাসানের পাশপাশি তানজিদ হাসান তামিম ও তাওহীদ হৃদয়ের টেস্ট অভিষেক হলো। অমিত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করছেন। অন্য দুজনকে কি খুব তাড়াহুড়ো করে আনা হলো?

আশরাফুল : তামিম সুযোগ পেয়েছে মূলত সাদমান ইসলামের চোটের কারণে। একইভাবে অমিতও সুযোগ পেয়েছে লিটনের চোটের কারণে। তবে অমিত দীর্ঘদিন ধরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ধারাবাহিক রান করছে। তাই যদি একটা খেলোয়াড়েরও সুযোগ পাওয়ার উচিত ছিল সেটার যোগ্য ছিল সে। তাওহীদ হৃদয়েরও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ভালো রেকর্ড রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করায় তাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন : যদি ভারত, অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তি দলের দিকে তাকাই, তাদের তুলনায় বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং বিভাগকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

আশরাফুল : গত সাত-আট মাসে টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে আমাদের ব্যাটিং ধারাবাহিকভাবে ভালো করেছে। টি-টোয়েন্টিতে এখনো উন্নতির সুযোগ আছে। তবে টেস্ট দলে এখন অনেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রয়েছে। সাত-আটজন ক্রিকেটার ৫০টির বেশি টেস্ট খেলেছে, যা বিশ্বের খুব বেশি দলের নেই। এ অভিজ্ঞতাই আমাদের বড় শক্তি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত