সেন্টমার্টিন পরিবহনের দুর্ঘটনা: ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণে রুল

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বসন্তপুর এলাকায় সেন্টমার্টিন পরিবহনের সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরানকে কেন ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হবেনা, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে বিআরটিএর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে করা আবেদন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রবিবার (২৬ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ নির্দেশনা জারি করেন।

এছাড়াও সেন্টমার্টিন পরিবহণটি (ঢাকা মেট্রো বি-১২-২৮৮১) চলাচলের সকল রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিল, সড়কের নির্ধারিত গতিবিধি মেনে চলতে পদক্ষেপ গ্রহণ, পরিবহনের দৃশ্যমান স্থানে গাড়ীর ফিটনেস সার্টিফিকেট স্থাপন ও এ বিষয়ে কিউআর কোড স্থাপন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবেনা, তা জানতেও রুল জারি করা হয়েছে।

পাশাপাশি রুলে সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সমন্বয়ে কুইক রেসপন্স টিম গঠন, সড়কে পরিবহনের বেপরোয়া গতি কমাতে প্রতিটি পরিবহনের ভেতরে-বাইরে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা স্থাপন, সিংগেল চেসিসে ডাবল ডেকর বাসে রুপান্তর করার বিষয়ে বিবাদীদের ব্যর্থতা সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী।এর আগে গত মে মাসে এ রিট দায়ের করা হয়। দুর্ঘটনায় আহত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন।

রিট আবেদনে ওই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জাতীয় একটি দৈনিকে ‘আরামের আড়ালে মারণফাঁদ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করা হয়।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের মধ্যে ১৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইফাদ মোটরসের মালিকানাধীন সেন্টমার্টিন পরিবহন (ঢাকা মেট্রো বি-১২-২৮৮১) দিবাগত রাত ২ টা ৫ মিনিটের সময় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম মিয়া বাজার থানাধীন এলাকায় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে পার্শ্ববর্তী জমিতে আছড়ে পড়ে। ওই দুর্ঘটনার পর পরিবহনের চালক-হেলপার পালিয়ে যায়।

দুর্ঘটনার শিকার বাসটি মুহূর্তেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। ভয়ে যাত্রীরা চিৎকার করতে থাকলে পুলিশ ও যাত্রীদের সহায়তায় সকলে বাসটি থেকে বেরিয়ে আনা হয়। ওই দুর্ঘটনায় রিটকারী আইনজীবীর বাম পাশের পাঁজরের ৫টি হাড়ে ফ্র্যাকচারসহ মানসিক ও শারীরিক নানান জটিলতা দেখা দেয়। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে দীর্ঘদিন ধরে ঘরে থেকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হয়। এতে করে রিটকারী আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হন।

তবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের প্রতি নোটিশ পাঠানো হয়। তবে সে নোটিশের জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। রিটে ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত