রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচলকারী ‘ফেরি কুমিল্লা’ থেকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেওয়া নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার চার ঘণ্টা পর রাজবাড়ীর পার্শ্ববর্তী ফরিদপুরের কবিরপুর চর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত নারীর নাম লাইজু আক্তার। তিনি ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীরচর এলাকার আশ্রাফাবাদের বাসিন্দা মো. ফোরকান মিয়ার স্ত্রী।
গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে ছেড়ে আসা দৌলতদিয়াগামী ফেরি কুমিল্লায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় পাটুরিয়ার ৩ নম্বর ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে দৌলতদিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসে ফেরি ‘কুমিল্লা’। ফেরিটি মাঝনদীর লাল বয়া এলাকায় পৌঁছালে আকস্মিকভাবে লাইজু আক্তার ফেরির পেছনের অংশ থেকে নদীতে লাফিয়ে পড়েন।
ফেরি ‘কুমিল্লা’র ভারপ্রাপ্ত মাস্টার আব্দুস ছাত্তার জানান, ফেরিটি মাঝনদীতে পৌঁছানোর পর সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে হঠাৎ খবর আসে, এক নারী যাত্রী ফেরির পেছনের দিক থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। খবর পাওয়ামাত্রই আমরা ফেরিটি থামিয়ে দেই এবং ফেরি ঘুরিয়ে ওই এলাকায় সার্চলাইট জ¦ালিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও নৌ পুলিশকে অবহিত করা হয় বলেও তিনি জানান।
এদিকে নদীতে প্রবল স্রোতের মাঝেও লাইজু আক্তার কচুরিপানার স্তূপ আঁকড়ে ভাসতে ভাসতে ফরিদপুর সদর উপজেলার কবিরপুর চরে আটকে যান। স্থানীয় ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন জানান, চরে আটকে পড়া ওই নারীকে দেখে স্থানীয়রা আমাকে খবর দিলে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে নিরাপদ হেফাজতে রেখে বিষয়টি পুলিশকে জানাই।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, লাইজু আক্তার বর্তমানে সুস্থ আছেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন।