মায়ানমারে বাড়ছে বেসামরিক হত্যাকাণ্ড, সতর্কবার্তা পর্যবেক্ষক সংস্থার

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:০২ এএম

মায়ানমারের নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির সামরিক বাহিনী বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে বলে সতর্ক করেছে সংঘাত পর্যবেক্ষক সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট (এসিএলইডি)। সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, একদিকে যখন আঞ্চলিক দেশগুলো মিয়ানমার সংকট সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করছে, অন্যদিকে সামরিক বাহিনী সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন আরও তীব্র করেছে। 

এসিএলইডির মতে, গত মার্চে মায়ানমারের সামরিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর এই হামলার মাত্রা বেড়েছে। সে সময় নতুন সেনাপ্রধান দায়িত্ব নেন, আর তাঁর পূর্বসূরি মিন অং হ্লাইং দেশটির প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চে জান্তা সরকার সামরিক কমান্ড কাঠামো পুনর্বিন্যাস করার পর থেকে বেসামরিক জনগণ আরও কঠোর দমন-পীড়ন ও ব্যাপক বিমান হামলার মুখে পড়েছে। নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে দুই থেকে পাঁচটি যুদ্ধবিমান নিয়ে বিশেষ স্কোয়াড্রন গঠন করে একই লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে মায়ানমার সরকারের একজন মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।

এসিএলইডি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা এবং স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনের তথ্যের ভিত্তিতে মায়ানমারের চলমান সংঘাতের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর থেকেই মায়ানমার গভীর রাজনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত হয়। এর পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছে লাখো মানুষ।

বেশির ভাগ বিরোধী দলকে নির্বাচনের বাইরে রেখে প্রেসিডেন্ট হওয়ার কয়েক দিন আগে মিন অং হ্লাইং তাঁর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইয়ে উইন উ-কে সেনাবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। 

এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নেতৃত্বে সামরিক বাহিনী সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে বিরল খনিজ রেয়ার আর্থ-সমৃদ্ধ অঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথসংলগ্ন সীমান্ত এলাকা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সেনাপ্রধানের পদ ছেড়ে মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর জান্তা সরকার এখন নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে বেসামরিক মানুষের জন্য সহিংসতা থেকে স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত