পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, রাজধানীসহ সারা দেশে আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা খালগুলো আমাদের শরীরের রক্তনালির মতো। যদিও দখল, দূষণ ও দীর্ঘদিন খনন না করায় এগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে বর্তমান সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এ কর্মসূচির সুফল পেতে হলে সরকারি, বেসরকারি খাত, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে কাজ করতে হবে। দেশের স্বার্থে, অর্থনীতি ও পরিবেশের স্বার্থে সারা দেশের খালগুলোকে আন্তঃসংযুক্ত একান্ত অপরিহার্য।
গতকাল বুধবার রজাধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বৃত্তাকার নৌপথের পুনরুজ্জীবন এবং অভ্যন্তরীণ নৌবাণিজের সম্প্রসারণে খাল খনন কর্মসূচির ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রী জানান, সরকার শুধু খাল খননই করছে না, পরবর্তী সময়ে তা সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি সংস্থার সমম্বয়ে কমিটি গঠন করেছে এবং পরিবেশ সুরক্ষা ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, খাল ও নদী খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। মন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পের বর্জ্য যেন নদীতে না পড়ে সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে এবং বিশেষ করে ছোট শিল্পকারখানায় যেন স্ব^ল্প খরচে ইটিপি স্থাপন করা যায় সে বিষয়ে প্রযুক্তি সহায়তার প্রদানের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গবেষণা ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তার কোনো বিকল্প নেই এবং এ লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিসআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। এ সময় তিনি বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের ১৪১৫টির বেশি নদীর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়, দীর্ঘদিনের অবহেলা, অপরিকল্পিত দখল এবং পলি জমার কারণে এই নদী ও খালগুলোর ৫৫ শতাংশেরও বেশি আজ কার্যকারিতা হারিয়েছে। তিনি বলেন, নদীপথের পিছিয়ে পড়ার কারণে দেশের ৭৭ শতাংশ পণ্য পরিবহন সড়কপথের ওপর নির্ভরশীল, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচির উদ্যোগ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক এবং এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদীভিত্তিক গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতিতে আরও প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তিনি আরও জানান, সড়ক পথের তুলনায় নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যয় ৫৫-৬০ শতাংশ কম এবং এটি ৪-৬ গুণ জ্বালানি সাশ্রয় করে থাকে। ফলে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বহুলাংশে হ্রাস পাবে।
তাসকীন আহমেদ বলেন, রাজধানীর চারপাশের চারটি নদীর ১১২ কিলোমিটার নৌপথকে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার আদলে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই, যার মাধ্যমে যানজট নিরসন ও নদীভিত্তিক পর্যটন গড়ে তুলতে সম্ভব হবে। সেমিনারের নির্ধারিত আলোচনায় পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর, স্থাপত্য অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ হোসেন, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন সরকার, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের সিনিয়র স্পেশালিস্ট মো. তানিম সারওয়ার, আল্টাফুয়েল ড্রেজিং অ্যান্ড মেরিন সার্ভিসেসের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন শওকত ইকবাল এবং ভিত্তি স্থপতিরা লিমিটেডের ফাউন্ডার পার্টার স্থপতি ইকবাল হাবিব প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।
