তিন কারণে আগামী আগস্টে চট্টগ্রাম আসছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফলে পিছিয়ে যাচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’ এর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। পূর্বনির্ধারিত ৯ আগস্টের পরিবর্তে এক মাস পিছিয়ে আগামী ৯ বা ১০ সেপ্টেম্বর টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পেছালেও মাঠের খেলা নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ীই গড়াচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়া, উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা শেষ না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে আগস্ট মাসের ৯ তারিখ টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন হচ্ছে না। বিষয়টি আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বুঝিয়ে বলেছি। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের ৯ বা ১০ তারিখ প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম এসে টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন করবেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের ফুটবলের সার্বিক প্রসার, তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন মেধাবী খেলোয়াড় অন্বেষণ এবং শিক্ষার্থীদের সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে ক্রীড়াচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতেই এই বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সারাদেশে একযোগে এই টুর্নামেন্টের পর্দা উঠবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের আসরে পাঁচ ধরনের মোট ৪০ হাজার ২৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৯ হাজার ২১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১ হাজার ৫৫৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৩ হাজার ৩৮০টি কলেজ, ৯ হাজার ২৯৬টি মাদরাসা এবং ৬ হাজার ৭৮৮টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বালক-বালিকা মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী সরাসরি ও পরোক্ষভাবে এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সেপ্টেম্বর মাসে হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ের উপজেলা ও থানা পর্যায়ের খেলা আগামী ৯ আগস্ট থেকেই মাঠে গড়াবে, যা চলবে ২০ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর ২৭ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর জেলা পর্যায় এবং ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর বিভাগীয় বা আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের খেলা আগামী ৬ অক্টোবর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলা বা থানা পর্যায়ে শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে আগামী ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ঢাকায় উভয় স্তরের জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত খেলা সম্পন্ন হবে। আটটি অঞ্চলের সেরা দলগুলোকে নিয়ে অনুষ্ঠিত এই আসর থেকে চারটি দল জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করবে। অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে জমকালো ফাইনাল ও সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে।
টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে সারাদেশে রিলস, থিম সং ও মাসকট তৈরির উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সৃজনশীল এই প্রতিযোগিতার প্রথম তিন বিজয়ীর হাতে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিনই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের অনুমোদন আটকে রেখেছে ব্রাজিল, ক্ষুদ্ধ ওয়াশিংটন