রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) আসন্ন বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে বিবদমান দুই পক্ষকে সমঝোতা করে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানি শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সমস্যাগুলো নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। তাছাড়া আগামী ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য গ্রীষ্মকালীন আবাসন মেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে আগামীকাল শনিবার। আগামী ১২ আগস্ট ঢাকার শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চার দিনব্যাপী গ্রীষ্মকালীন আবাসন মেলা শুরু হওয়ার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শনিবার বৈঠকে বসবেন রিহ্যাবের সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আশরাফুল ছিদ্দিক স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়, রিহ্যাবের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগের বিষয়ে ৩০ জুলাই শুনানি হয়। শুনানিতে বিস্তারিত আলোচনা, উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে অধিকতর পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে নির্দেশক্রমে রিহ্যাবের আসন্ন বার্ষিক সাধারণ সভা আগামী ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
রিহ্যাবও আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক সাধারণ সভা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে স্থগিত করা হয়েছে বলে সদস্যদের জানায়। রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বার্ষিক সাধারণ সভার নতুন স্থান, তারিখ ও সময় পরে সদস্যদের জানিয়ে দেওয়া হবে।
রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক দেশ রূপান্তরকে বলেন, এজিএম (বার্ষিক সাধারণ সভা) ছাড়া বাকি সব কার্যক্রম চলবে। সমঝোতা করার জন্য আমাদের দুই সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে আমরা আলাপ-আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। শনিবার ঢাকার হোটেল রেডিসন ব্লুতে রিহ্যাবের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
এর আগে রিহ্যাবের সহ-সভাপতি-১ মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাসের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটির বিভিন্ন অনিয়ম ও সিদ্ধান্ত নিয়ে উত্থাপিত ১২টি অভিযোগের বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে শুনানি হয়। জানতে চাইলে অভিযোগকারী ও রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে মন্ত্রণালয় থেকে সমস্যা সমাধনের কথা বলা হয়েছে। আমরা শুরু থেকেই পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে রিহ্যাব পরিচালনা করতে চেয়েছি। কিন্তু সব জায়াগায় কেমন জানি লুকোচুরি।
তিনি বলেন, আমরা আশা করছি এবার শুধরে নিয়ে ভালোভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারব। তা না হলে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাব।
ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফাইনান্স) হারুন-অর-রশিদ বলেন, সমস্যা সমাধানে বিবদমান দুই পক্ষকে সমঝোতা করে কার্যক্রম চালাতে বলা হয়েছে। আমরাও সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যক্রম চালাব। ঐক্যের বিষয়ে সবারই ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই তহবিল থেকে ২ কোটি টাকা ব্যয়, স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠনে অনিয়ম, এজিএমের স্থান ও তারিখ নির্ধারণ, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতকরণ, গোপনীয় তথ্য প্রকাশ, রিহ্যাব সামার ফেয়ার ২০২৬ আয়োজন, ক্রয়সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটি বিলুপ্ত, সরকারি পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব, সভাপতির পক্ষপাতমূলক আচরণ, সদস্য উন্নয়ন কমিটিতে পরিচালকদের অন্তর্ভুক্ত না করা, সিনিয়র সহ-সভাপতির অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব প্রদান না করা এবং পরিচালনা পর্ষদের সভা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণসংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম।
এর আগে রিহ্যাবের সহ-সভাপতি-১ মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাসসহ পরিচালনা পর্ষদের ১০ সদস্য ২৬ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনু বিভাগের মহাপরিচালক বরাবর একটি আবেদন করেন। এতে আর্থিক অনিয়মসহ ১২টি বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ২২ জুলাই পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া সংগঠনের তহবিল থেকে সভাপতি আলী আফজাল ও জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের যৌথ স্বাক্ষরে দুই কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। এ ছাড়া গত তিন মাসে তহবিল থেকে ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেই ব্যয় পরিচালনা পর্ষদের সভায় পেশ করে অনুমোদন নেননি তারা।
রিহ্যাব নেতারা বলছেন, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ২ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন। একইভাবে অনুমোদন নিয়েই বিভিন্ন বিষয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটি করা হয়েছে। অন্যান্য কার্যক্রমও নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।
