ফের দায়িত্বে জলিল

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৮ এএম

ম্যাটের ওপরে বসা ১৪ জন নারী কাবাডি খেলোয়াড়। তাদের খেলার নানা দিক সম্পর্কে বুঝিয়ে দিচ্ছেন দেশের কাবাডির বর্ষীয়ান খেলোয়াড় ও প্রধান কোচ আবদুল জলিল। পাশেই বসা তিন কোচ বাদশা মিয়া, আরদুজ্জামান ও শাহনাজ পারভীন মালেকা। দীর্ঘদিন কাবাডির ম্যাটে কোচ হিসেবে দেখা গেল আবদুল জলিলকে। প্রায় আড়াই বছর পর জাতীয় দলের দায়িত্বে জলিল। সবশেষ ২০২৪ সালের মার্চে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কাবাডি প্রতিযোগিতায় জাতীয় দলের কোচ হিসেবে ছিলেন। যে দলটি ওই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। দায়িত্ব পেয়ে আনন্দিত জলিল বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর প্রিয় কাবাডি অঙ্গনে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে। বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহোদয় ও গাজীপুরের (জিএমপি) পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার আমাকে কাজ করতে বলেছেন। তাই আমি এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে যাওয়া পুরুষ ও নারী দুই দলকেই দেখভাল করছি। আমার সঙ্গে আরও চারজন কোচও রয়েছেন।’

আবদুল জলিলের কাবাডি জীবনের শুরু বাবার হাত ধরেই। বাবা খলিল উদ্দিন মিয়ার কাছে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় কাবাডির হাতেখড়ি হয় তার। এরপর খেলোয়াড় হিসেবে দেশের অন্যতম সফল কাবাডি তারকায় পরিণত হন তিনি। ১৯৯৫ সালে ভারতের মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় গেমসে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন জলিল। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ রৌপ্যপদক জিতেছিল। ওই আসরই ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলোয়াড় হিসেবে তার শেষ প্রতিযোগিতা। এরপর অধিনায়ক হিসেবেই অবসর নেন তিনি।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচ হিসেবে আরও উজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেন আবদুল জলিল। পুরুষ ও নারী দুই জাতীয় দলকেই বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য এনে দিয়েছেন। বর্তমানে জাতীয় দলে থাকা অধিকাংশ খেলোয়াড়ই তার হাত ধরে গড়ে উঠেছেন। কোচ হিসেবে তার সাফল্যের তালিকাও সমৃদ্ধ। ২০০২ সালের বুসান এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশকে রৌপ্যপদক এনে দেন তিনি। ২০০৬ সালের দোহা এশিয়ান গেমসে তার অধীনেই ব্রোঞ্জ জেতে বাংলাদেশ। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ কাবাডিতে দেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা সাফল্য এনে ব্রোঞ্জপদক জিতেছিল বাংলাদেশ। একই বছর ম্যাকাও ইনডোর এশিয়ান গেমসেও তার কোচিংয়ে ব্রোঞ্জপদক আসে। এছাড়া ২০১০ সালের ঢাকা দক্ষিণ এশীয় গেমসে পুরুষ দল এবং ২০১৬ সালের দক্ষিণ এশীয় গেমসে নারী দলকে রৌপ্যপদক জিতিয়েছিলেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত