প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর বলেছেন, এই মুহূর্তে আন্দোলন-সংগ্রামের রাজনীতি জনগণ পছন্দ করছে না। কারণ, ১৭ বছরের দৈত্য-দানব ফ্যাসিবাদ জনগণ হটিয়েছে। এখন একটি সরকারের ছয় মাসও পূর্ণ হয়নি, এর মধ্যেই সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের ডাক দেওয়া হচ্ছে।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ধরেন সরকার দায়িত্ব ছেড়ে দিল, তারপর কে দেশ ও রাষ্ট্র চালাবে? কে আছে দেখান? এই মুহূর্তে এমন একটি জিওপলিটিক্যাল ক্রাইসিসে বাংলাদেশকে লিড দেয়ার মতো বিএনপি সরকার ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
সোমবার (৩ আগস্ট ) বেলা আড়াইটার দিকে ‘‘অগ্নিঝরা জুলাই, সংগ্রামের সুর’’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, আমি প্রতিমন্ত্রী রয়েছি বলে বিএনপির দালালি করছি-বিষয়টি এমন নয়। এটা বাস্তবতা। ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের সময় আমি বিষয়গুলো কাছ থেকে দেখেছি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে গোটা বিশ্বেই জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়।
আমি সরকারের ভেতর থেকে দেখেছি কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে। এটা প্রশংসনীয়। এজন্য অর্থমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীকে প্রশংসা করতেই হবে। তাদের প্রচেষ্টাতেই এটি সম্ভব হয়েছে। কারণ আমরা আতঙ্কে ছিলাম যে, একটি বড় সংকট তৈরি হতে পারে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। কিন্তু আজ আমাদের শিক্ষিত তরুণরা না বুঝে ‘চিল নিয়েছে কানে’—এই প্রবাদের মতো বিভিন্ন আন্দোলনের পেছনে ছুটছে। এতে বিদেশি শক্তি, যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে ফায়দা নিতে চায় এবং সরকারকে জিম্মি করে নিজেদের স্বার্থ আদায় করতে চায়, তারা সুযোগ পেয়ে যাবে।
শেষদিকে শিক্ষিত তরুণদের উদ্দেশে নুরুল হক নূর বলেন, এই মুহূর্তে উসকানিমূলক আন্দোলন-টান্দোলন করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চিন্তাভাবনা আঞ্চলিক ভাষায় নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা। তাই আমি শিক্ষিত ও সচেতন তরুণ প্রজন্মকে অনুরোধ করব-সরকারের সমালোচনা করুন, দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করুন। সরকারকে সঠিক পথে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর রাজনীতি, অশ্রাব্য ও অসামাজিক রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে যায় না। জুলাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধই থাকতে হবে।
