মিয়ানমারে পাচারের সময় কোস্টগার্ডের জব্দ করা ৪৫০ বস্তা ডিএপি সারের একটি অংশ বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। জব্দ তালিকাভুক্ত সার থেকে ৯০ বস্তা চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে গোপনে বিক্রি করা হয়। পরে সেই সার সরিয়ে নেওয়ার সময় গত ২ আগস্ট কর্ণফুলী থানার পুলিশ ট্রাকসহ ৫০ বস্তা সার জব্দ করলে পুরো ঘটনাটি সামনে আসে। তবে বুধবার (৫ আগস্ট) স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের আসামি করে কর্ণফুলী থানায় একটি মামলা হয়েছে।
এর আগে গত ৩১ জুলাই সকাল ১০টার দিকে মিয়ানমারে পাচারের সময় নগরীর পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৬ লাখ টাকা মূল্যের ৪৫০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করে কোস্টগার্ড। এ সময় সার পাচারে ব্যবহৃত একটি কার্গো বোট ও ঘটনায় জড়িত ২৩ জনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
এ ঘটনায় শুধু সার পাচার নয়,বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা জব্দ আলামতের নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ সত্য হলে, কোস্টগার্ডের অভিযানে উদ্ধার হওয়া সরকারি আলামত কীভাবে পুলিশি হেফাজত থেকে বের হলো-সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী,কোস্টগার্ড জব্দ করার পর সারের বস্তাগুলো তখনও কার্গো বোটেই সংরক্ষিত ছিল। অভিযোগ রয়েছে,আনুষ্ঠানিকভাবে মালামাল হস্তান্তর বা গুদামজাত করার আগেই নৌযান থেকে ধাপে ধাপে সার বের করে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে,পতেঙ্গা থানাধীন কয়লার ডিপো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নাজিবুল ইসলাম তানভীর, এএসআই শম্ভু নাথ ও পুলিশের কথিত 'ক্যাশিয়ার' কনস্টেবল আলাউদ্দিনের যোগসাজশে জব্দ করা সার থেকে ৯০ বস্তা বিক্রি করা হয়। আর কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা এলাকার ব্যবসায়ী মনিরের কাছে এসব সার বিক্রির পুরো লেনদেনের সমন্বয়কের ভূমিকায় ছিলেন কনস্টেবল আলাউদ্দিন।
পরে বিক্রিত এসব সার ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়ার সময় কর্ণফুলী থানাধীন শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো.শফি উল্লাহ জুলধা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাকসহ ৫০ বস্তা সার আটক করেন। ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও তৎপরতা শুরু হয়। পরে কর্ণফুলী থানায় মনির ও রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,মামলা হওয়ার আগে রেজাউল নামে এক ব্যক্তিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
প্রশ্ন উঠেছে,কোস্টগার্ডের জব্দ করা ৪৫০ বস্তা সার গ্রহণ,সংরক্ষণ ও পাহারার দায়িত্বে কারা ছিলেন? জব্দ তালিকার সঙ্গে বর্তমানে থাকা সারের পরিমাণ মিলিয়ে দেখা হয়েছে কি না? যদি ৯০ বস্তা সার সত্যিই বাইরে চলে গিয়ে থাকে,তাহলে তা একদিনে সম্ভব নয়; বরং এর পেছনে সংঘবদ্ধভাবে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা যোগসাজশ ছিল কি না,সেটিও তদন্তে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে কয়লার ডিপো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নাজিবুল ইসলাম তানভীর বলেন,সারগুলো যেভাবে জব্দ করা হয়েছিল,সেভাবেই আছে। বিক্রির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ আলী বলেন,জব্দ করা সার বিক্রির অভিযোগ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মনির ও রেজাউল করিমের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও নাম এলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
সিএমপির বন্দর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন,ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন,তদন্তে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
