বিস্ময়কর প্রাণী পিঁপড়া

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

পিঁপড়া উপনিবেশ স্থাপনের চূড়ান্ত জীব। পৃথিবীতে একশ ট্রিলিয়নেরও বেশি পিঁপড়া রয়েছে। আকারে ক্ষুদ্র হলেও এরা বিস্ময়কর প্রাণী। এদের সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা, রাসায়নিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং শারীরিক শক্তি বিজ্ঞানীদের অবাক করে। পৃথিবীতে ১৫ হাজারেরও বেশি প্রজাতির পিঁপড়া রয়েছে। তারা সমাজবদ্ধভাবে বাস করে। বিপদে পড়লে, অনেক প্রজাতির পিঁপড়া ফরমিক অ্যাসিড বা বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ নির্গত করে। তারা মুখে কথা বলে না। ‘ফেরেমন’ ছড়িয়ে একে অপরকে রাস্তা ও বিপদের বার্তা দেয়। কলোনিতে রানী পিঁপড়াই প্রধান। সে দীর্ঘকাল বাঁচে এবং ডিম পেড়ে বংশবৃদ্ধি করে। কলোনির অন্য পিঁপড়া খাবার সংগ্রহ, বাসা পাহারা ও বাচ্চাদের লালনপালনের কাজ করে। এরা চলার সময় মাটিতে বিশেষ গন্ধ রাখে, যাতে পেছনের দল সেই গন্ধ শুঁকে পথ চিনে নিতে পারে। তারা দল বেঁধে পাতা ও অন্যান্য জৈব পদার্থ কলোনিতে জমা করে। এরপর সেগুলো পচে সেখান থেকে তৈরি হয় বিশেষ ধরনের ফাঙ্গাস ও পোকামাকড়। তারপর সেগুলো হয় খাবার। এদের মুখে দাঁত নেই। জিভ প্রায় ২৪ ইঞ্চি লম্বা। জিভ আঠালো লালায় ঢাকা। জিভের ছোট কাঁটার কারণে পোকা আটকে যায়। ফিজিতে এক জাতের পিঁপড়ার আচরণ কৃষকের মতো। তারা বীজ বোনে, তারপর সার দেয়। নেচার প্ল্যান্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা বলছে, ‘ফিলিড্রিস নাগাসাউ’ নামের পিঁপড়া নিজেদের খাবারের জোগান দিতে ছত্রাকের চাষ করে। তারা সেখানে মলত্যাগ করে, যাতে চারাগাছগুলো প্রয়োজনীয় সার পায়। বিজ্ঞানীদের মতে, পিঁপড়া ডাইনোসরের সময় থেকে আছে। তবে পিঁপড়ার আয়ু, প্রজাতি ও ধরন ভেদে শ্রমিক কয়েকমাস এবং রানী ৩০ বছর বাঁচতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত