মন্ত্রীদের ন্যূনতম ১০ লাখ টাকা এবং সংসদ সদস্যদের (এমপি) ৫ লাখ টাকা বেতন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। জনপ্রতিনিধিদের সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে তাঁদের বেতন-ভাতা যৌক্তিক পর্যায়ে বাড়ানোর প্রস্তাব দেন তিনি।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল হক নুর এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, মন্ত্রীদের ন্যূনতম ১০ লাখ টাকা এবং এমপিদের ৫ লাখ টাকা বেতন হওয়া উচিত। তাঁরা এলাকায় গেলে মানুষ সাহায্য-সহযোগিতার জন্য আসেন। তখন নানা ধরনের চাহিদা সামাল দিতে হয়।
এমপিদের জন্য সরকারি গাড়ির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এমপিদের করমুক্ত গাড়ি আমদানি ও প্লট সুবিধা বন্ধ করেছে। তবে প্রান্তিক পর্যায়ে সংসদীয় এলাকায় যাতায়াতের জন্য এমপিদের একটি ভালো গাড়ি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সরকারকে পাঁচ বছরের জন্য এমপিদের একটি গাড়ি সরবরাহ করা উচিত। একজন এমপি যত দিন দায়িত্বে থাকবেন, তত দিন তিনি গাড়িটি ব্যবহার করবেন।
বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়েও কথা বলেন নুরুল হক নুর। তাঁর ভাষ্য, আগের মতো প্রশাসনের মাধ্যমে ভোট করানো বা কেন্দ্র দখলের সুযোগ এখন নেই। স্বচ্ছ নির্বাচনে জনসম্পৃক্ত ও জনগণের কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিরা নির্বাচিত হচ্ছেন। এবার তাঁর মতো কয়েকজন তরুণও এমপি হয়েছেন।
সরকারের সমালোচনাকারীদেরও সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাড়ে পাঁচ মাসের একটি সরকারের বিরুদ্ধে সচিবালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি কোনো বিবেকবান মানুষ সমর্থন করতে পারেন না।
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে নুরুল হক নুর দাবি করেন, গণহত্যা চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করা ফ্যাসিস্ট ও মাফিয়া গোষ্ঠী এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। প্রতিবেশী দেশের সহায়তায় সিভিল বা সামরিক ক্যুর মাধ্যমে সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সচিবালয় ঘেরাওয়ের মতো উসকানিমূলক কর্মসূচিতে না গিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
