গত ৩০০ দিনে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় অন্তত ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে। অর্থাৎ এই সময়ে প্রতিদিন গড়ে একজন শিশু নিহত হয়েছে। একই সময়ে আরও শত শত শিশু আহত হয়েছে বলেও জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।
এদিকে, উপত্যকাটিতে বেসামরিক মানুষের ওপর গোলাবর্ষণ, গুলিবর্ষণ ও নৌবাহিনীর হামলাসহ তীব্র সামরিক হামলা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের মধ্যাঞ্চলে রামাল্লার পূর্বদিকে ফিলিস্তিনি বেদুইন সম্প্রদায়ের ওপর হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। বাসিন্দাদের উচ্ছেদের লক্ষ্যেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
আল-বাইদার অর্গানাইজেশন ফর দ্য ডিফেন্স অব বেদুইন রাইটস এক বিবৃতিতে জানায়, শুক্রবার তাইবেহ গ্রামের পূর্বদিকে অবস্থিত আরব আল-কাবনেহ সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। এর আগে বুধবার সন্ধ্যাতেও একই এলাকায় হামলা চালানো হয়েছিল বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, গাজার শিশুরা এখনো অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে বসবাস করছে। অতিরিক্ত জনাকীর্ণ আশ্রয়কেন্দ্র, নিরাপদ পানির সীমিত সুযোগ এবং স্বাস্থ্যসেবার সংকট তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ও জীবিকায় প্রভাব ফেলছে বলে সতর্ক করেছে ওসিএইচএ।
সংস্থাটি জানায়, হেবরনের মাসাফের ইয়াত্তা এলাকার ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় তুবায় বুধবার রাতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তিনটি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এসব পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ১৪ জন শিশু রয়েছে। তারা নিরাপত্তার জন্য আত্মীয়স্বজন বা প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
ওসিএইচএ জানিয়েছে, এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। এ ছাড়া একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ১০ টন পশুখাদ্য এবং অন্যান্য সম্পদ ধ্বংস করা হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ১ হাজার ৩৮০টিরও বেশি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে ওসিএইচএ। এসব ঘটনায় হতাহত, সম্পদ ক্ষতি অথবা উভয়ই ঘটেছে। ওসিএইচএ আরও জানায়, বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে একই সময়ে ২ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অধিকৃত ভূখ-জুড়ে ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের ওপর হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।
