তিস্তার ডান তীরে বাঁধের ৭ কিমি ভাঙনের মুখে

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৩ এএম

দিক পরিবর্তন করে তিস্তা নদীর ডান তীরে সরে আসায় এবার প্রধান বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভেন্ডাবাড়ি এলাকায় এ ভাঙন শুরু হয়। এতে প্রধান বাঁধের ৭ কিলোমিটার হুমকির মুখে পড়েছে। পানির ধাক্কায় বাঁধের মাটি ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে তিস্তার ডান তীরে অবস্থিত ১ নম্বর ¯পার এবং ভেন্ডাবাড়ি গ্রামের পাঁচশতাধিক পরিবার চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া জেলার জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি, গোলমুন্ডা ইউনিয়ন দুটি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পাউবোর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিস্তা ব্যারাজ থেকে রংপুরের কাউনিয়া পর্যন্ত ডান তীরের প্রধান বাঁধটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ কিলোমিটার। ইতিমধ্যে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ডান দিকে সরে আসায় পুরো প্রধান বাঁধ এলাকাটি ঝুঁকির মুখে। গতকাল পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৭ কিলোমিটার ভাঙন দেখা দিয়েছে। জরুরিভিত্তিতে সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশন জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলে ভাঙন রোধের কাজ করছে। এর আগে তিস্তা নদীর পানি কয়েক দফায় বিপদসীমা অতিক্রম করে। তবে গত ২২ জুলাই নদীর পানি বিপদসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলে সেদিন পানির তীব্র চাপ ও নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা, কেল্লাপাড়া ও ভেন্ডাবাড়ি এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন শুরু হয়। এরপর পানি কমে এলে ১৪ দিনের ব্যবধানে গত ৫ আগস্ট তিস্তার পানি আবারও হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সেই চাপের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ডান তীরের প্রধান বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে তিস্তাপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে।

পাউবো ডালিয়া পয়েন্টের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, গতকাল বিকেল ৬টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, অর্থাৎ ৫১ দশমিক ৮৮ মিটার সমতলে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ পয়েন্টে বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। এর আগে এদিন সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ৫১.৯৫ মিটার এবং বিকেল ৩টায় ৫১ দশমিক ৯০ মিটার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, গতকাল সকালে পানি কমতে শুরু করার পর নদীর তীব্র স্রোত ভেন্ডাবাড়ি এলাকায় ডান তীরের প্রধান বাঁধে সরাসরি আঘাত হানে। খবর পেয়ে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করছি।

তিনি আরও জানান, তিস্তা নদী ওই এলাকায় হঠাৎ করে গতিপথ পরিবর্তন করে আসায় প্রধান বাঁধে আঘাত হানছে। বর্তমানে ৭ কিলোমিটার ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানীর ভেন্ডাবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ও গোলমুন্ডা ইউনিয়ন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আমরা ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ১ নম্বর ¯পার ও ভেন্ডাবাড়িসহ প্রায় ৭ কিলোমিটারে নদীর আঘাতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে ভেন্ডাবাড়ি গ্রামের প্রায় পাঁচশ পরিবারের বসতবাড়ি এবং শত শত হেক্টর ফসলি জমি তিস্তার পানিতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভেন্ডাবাড়ি ¯পার এলাকার কৃষক শরিফুল আলী বলেন, তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ডান দিকে চলে আসায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সামনে যদি আরেক দফা বড় বন্যা আসে, তাহলে এ এলাকার একটি গ্রামও টিকে থাকবে না।

অপর বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, নদী যেভাবে ডান তীরে সরে এসে আঘাত হেনে বাঁধ ভেঙে দিচ্ছে, এতে আমাদের রাতে ঘুম কেড়ে নিয়েছে। এই বাঁধ ভেঙে গেলে ভেন্ডাবাড়ি, ডাউয়াবাড়ি, গোলমুন্ডার শত শত ফসলি জমি তলিয়ে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত