বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, রাড্ডা কান্ডের দায় শুধুমাত্র একজন নারী সংসদ সদস্যের উপড় নয়; এই রাড্ডা কান্ডের সকল দায় প্রধামন্ত্রীকে বহন করতে হবে। আপনাদের দলীয় ফোরামকে নিয়ন্ত্রণ করুন। গণভোটের গণরায় কার্যকর করুন। তেল গ্যাস বিদ্যুৎ সহ জনগণের সমস্যা সমাধানের জন্য জনগণের জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা করুন। সিন্ডিকেট প্রথা বানচাল করুন। দলীয়করণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলার ব্যবস্থা করুন। জনগণের ম্যান্ডেট ও রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন। জুলাই সনদের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল প্রশাসনকে দলীয়করণমুক্ত রাখা। বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের পরে বাংলাদেশের জনগণ আর পুলিশ দল দেখতে চায়না। জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের মাদানী চত্ত্বরে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এদিন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উদ্যোগে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও দ্রবমূল্যের উর্ধ্বগতি রোধ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির প্রতিবাদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এই নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
আল্লামা মামুনুল হক বলেন, উনার মহিলা এমপি দখলদারি করেছে সন্ত্রাসী করেছে। উনার মহিলা এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে সড়িয়ে দিয়ে উনার দলকে শুদ্ধ করতে চায়। আমি প্রধানমন্ত্রীর বলতে চাই; এই ব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য প্রধান দায়ী আপনি। বিরোধী দলের প্রত্যেকটি আসনে আপনার দলীয় মহিলা এমপিদের দায়িত্ব দিয়ে বিরোধী দলীয় এমপিদের অকার্যকর করার ষড়যন্ত্র করেছেন। আর বিরোধী দলীয় এমপিদের আসনে আপনার নারী এমপিরা সন্ত্রাসী করবে চাঁদাবাজি করবে ভাঙচুর করবে। যে দলের নারী নেত্রীদের এই অবস্থা হলে সে দলের পুরুষ চাঁদাবাজ দখলদার কি অবস্থা।
তিনি আরও বলেন, আমরা রাজপথে নামতে ৬ মাস সময় নিয়েছি। আপনারা গণভোটের রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে গাদ্দারি করতে ৬ মিনিট সময় বিলম্ব করেননি। সংসদ সদস্যের শপথ নিলেন; কারণ সংসদ সদস্যের শপথ নিলে সরকার গঠন করা যায় মন্ত্রী হওয়া যায়। চেয়ারে ভাগা ভাটোয়ারা চাঁদাবাজি শুরু করে দিলেন। একই দিনে একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে দেশজুড়ে দুইটি ভোট হয়েছে। একভোটে আপনারা ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের নিশ্চিত আসনের বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষ তা স্বাক্ষী। আমরা সংসদে গিয়ে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলবো সেজন্য আমাদের নিশ্চিত বিজয় ছিনতাই করে নিয়েছেন। সব আমরা সহ্য করেছি।
মামুনুল হক বলেন, আপনারা বাংলাদেশের মানুষকে হাইকোর্ট দেখানোর নতুন চিন্তা করতেছেন। অনুরোধ করি বাঙালিরে হাইকোর্ট দেখানোর চেষ্টা কইরেন না; যদি বাঙালিরে হাইকোর্ট দেখানোর চেষ্টা করেন বাঙালি রাজপথ দেখিয়ে ছেড়ে দিবে। আপনারা শেখ হাসিনার মতো প্রতাপশালী জালিম স্বৈরাচারী হতে পারবেন না। শেখ হাসিনাকে তার বিদেশী প্রভুরা টিকিয়ে রাখতে পারে নাই।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, নায়েবে আমীর মাওলানা মাহবুবুল হক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল ও মাওলানা এনামুল হক মুসা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সভাপতি মাওলানা মামুনুর রশীদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা হোসাইন আহমদ, নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল কাদের নদভী, নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সহ-সভাপতি খন্দকার আনোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রাকিব সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।